অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আ’মে’\রি’\কার সঙ্গে হওয়া চুক্তি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-এর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি বলে দাবি করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman)। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে সরকারের কেউ তাদের সঙ্গে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রংপুর (Rangpur) শিল্পকলা একাডেমিতে মহানগর জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সেখানে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, স্থানীয় নির্বাচন এবং গণভোটের বিষয়েও নানা মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা পদ্মা ব্যারাজ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তবে সেটি তিস্তার বিকল্প হতে পারে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। তার ভাষায়, তিস্তাকে তার ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, সংসদের ভেতরেও তিনি একই অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন এবং এ বিষয়ে তাদের দলের অবস্থান পরিষ্কার। তিস্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, তাদের দল সবসময় নির্বাচনমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশের নেতৃত্বে পরিবর্তন দেখতে চায় জামায়াত। সে কারণেই অতীতের মতো আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সব স্তরে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।
তবে সাম্প্রতিক উপ-নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি। শেরপুর ও বগুড়ার নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে যা ঘটেছে তা দেশের মানুষের সামনে স্পষ্ট। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে তারা শঙ্কিত।
তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজেদের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় জনগণকে আরও সজাগ ও সোচ্চার হতে হবে। তার দাবি, জনগণের ম্যান্ডেটই সব সংকটের মূল সমাধান। জনগণ জেগে উঠলে পরিস্থিতি বদলে যায়।
গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকার সেই রায়কে অগ্রাহ্য করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের রায়কে বাদ দেওয়ার বা পরিত্যক্ত ঘোষণা করার চেষ্টা চলছে। তবে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তার ভাষায়, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে তারা সংসদের ভেতরে এবং বাইরে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং একদিন সেই রায় বাস্তবায়িত হবেই।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, গণভোটকে উপেক্ষা করার পাশাপাশি সরকার দেশের গভর্নর পরিবর্তন করে বিতর্কিত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসিয়েছে। একই সঙ্গে ৪২ জেলায় প্রশাসক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তার অভিযোগ, যখন দেশ একটি গণতান্ত্রিক ধারায় এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন কেন দলীয় বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ পদে লোক বসানো হবে—এ প্রশ্ন এখন জনগণের মধ্যেও উঠছে। বিভিন্ন নির্বাচনে জনগণ যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের আবারও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানোকে তিনি জনগণের সঙ্গে ‘তামাশা’ বলেও উল্লেখ করেন।
