শেখ হাসিনাকে দেশে এনে ফাঁ’\সির কাষ্ঠে ঝু’\লানোর হুঁশিয়ারি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (Nasiruddin Patwari) মন্তব্য করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-কে দেশে এনে ফাঁ’\সির কাষ্ঠে ঝু’\লানো হবে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, যারা অতীতে অসংখ্য মানুষকে ফাঁ’\সির কাষ্ঠে ঝু’\লিয়েছে, তাদের বি’\চারও করা হবে।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রাজশাহী (Rajshahi)-র ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে পাটওয়ারী বলেন, ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তারা মাঠে নেমেছেন। তার ভাষায়, মানুষের প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশে সংস্কার বাস্তবায়ন হবে এবং দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে একজন প্রধানমন্ত্রীর ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার প্রবণতা জনগণ রুখে দেবে।

তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু মানুষের শরীরে এখনও গু’\লির চিহ্ন রয়ে গেছে। কেউ হাত হারিয়েছেন, কেউ সন্তান হারিয়েছেন। রাজশাহীর অলিগলিতে শহীদদের রক্ত এখনও সাক্ষ্য দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, দেশের সাধারণ মানুষকে বছরের পর বছর নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, নির্বাচনে ভোট চুরি করা হয়েছে এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করা হচ্ছে। অতীতেও গাদ্দারদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বক্তব্যে তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেখানে গেরুয়া পতাকা এসেছে, তবে বাংলাদেশেও তারা প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুসলমানরা কাউকে ভয় পায় না এবং একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে মাথা নত করবে না। শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে তারা আবারও শহীদ হতে প্রস্তুত।

সমাবেশে সীমান্ত হ’\ত্যা ও পানির অধিকার নিয়েও কথা বলেন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, সীমান্তে মানুষ নি’\হত হবে আর তথাকথিত জাতীয়তাবাদীরা নীরব থাকবে—এমন রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষের প্রয়োজন নেই। বক্তব্যে তিনি মাওলানা ভাসানী (Maulana Bhashani)-র পানির অধিকার নিয়ে দেওয়া ঐতিহাসিক অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ফারাক্কার ঐতিহাসিক দিবসে পানির অধিকার, সীমান্ত হ’\ত্যা বন্ধ, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ-গ্যাসের চাহিদা পূরণ এবং শেখ হাসিনার বি’\চারের দাবিতে যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা রাজপথ থেকে আরও বিস্তৃত হবে। তার ভাষায়, “এই আজাদীর সংগ্রাম চলবে।”