উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত আর দেশে ফেরা হলো না জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার (Karina Kaiser)-এর। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃ’\ত্যুবরণ করেন তিনি। আর প্রিয় কন্যাকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়েছেন তার মা লোপা কায়সার (Lopa Kaiser)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে নিজের অসহায় অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে ফেসবুকে দেওয়া সেই পোস্টে লোপা কায়সার লেখেন, ‘জীবনের অনেক বড় বড় পরীক্ষা হাসিমুখে পার করেছি। কখনো কারও কাছে কিছু চাইনি, কারও অপকার করিনি। সব সময় চেষ্টা করেছি মানুষের উপকার করতে। আজ আমার মেয়েকে ছাড়া জীবনের ভার আমি কীভাবে বয়ে বেড়াব, জানি না।’
মায়ের এমন হৃদয়ভাঙা কথাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকে। ভক্ত, শুভানুধ্যায়ী ও পরিচিতজনরা মন্তব্যের ঘরে পরিবারটির প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার মেয়ের মরদেহ নিয়ে ঢাকায় ফেরেন লোপা কায়সার। একই দিন বাদ মাগরিব রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস মাঠে অনুষ্ঠিত হয় কারিনার প্রথম জানাজা। পরে বাদ এশা বনানী দরবার শরিফে দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়। রাতেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে তার মরদেহ। পরদিন সোমবার বাদ ফজর মুন্সিগঞ্জের আবদুল্লাহপুরে দাফন করা হবে তাকে।
লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় কয়েক দিন ধরেই সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই (Chennai)-এ নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরে হেপাটাইটিস এ ও ই–জনিত জটিলতায় লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। চিকিৎসকেরা প্রথমে ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং পরবর্তীতে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন কারিনা। পরবর্তীতে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার জগতেও নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ (Internship) ও ‘৩৬-২৪-৩৬’ (36-24-36)।


