বিসিবি নির্বাচনের আগে বড় চমক, কাউন্সিলর তালিকা থেকেই বাদ কয়েকজন হেভিওয়েট মুখ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (Bangladesh Cricket Board) আসন্ন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন ঘিরে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-গুঞ্জনের জন্ম হয়েছে। গত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে বিসিবি নির্বাচনের তপশিল। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত এই নির্বাচন। একইদিন বিকাল ৫টা পর্যন্ত ছিল কাউন্সিলরশিপের নাম জমা দেওয়ার নির্ধারিত শেষ সময়।

বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, বিসিবির মোট ১৯২টি কাউন্সিলর পদের বিপরীতে এবার জমা পড়েছে ১৮৪টি কাউন্সিলরশিপ ফরম। দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ক্রীড়া সংগঠন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কাউন্সিলরের নাম পাঠায়নি। ফলে এবারের তালিকায় মোট ৮টি কাউন্সিলরশিপ শূন্য থেকে গেছে।

তবে সংখ্যার হিসাবের চেয়েও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে কাউন্সিলর তালিকায় কয়েকজন পরিচিত ও প্রভাবশালী মুখের অনুপস্থিতি। ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটকেন্দ্রিক আলোচনায় যাদের নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জোর গুঞ্জন ছিল, তাদের অনেকের নামই শেষ পর্যন্ত দেখা যায়নি চূড়ান্ত তালিকায়। সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে অনুপস্থিত রয়েছেন ফারুক আহমেদ (Faruk Ahmed), ইফতেখার রহমান মিঠু এবং মাহবুব আনাম। একইসঙ্গে ইসতিয়াক সাদেক ও লোকমান হোসেনও জায়গা পাননি বিভিন্ন ক্লাবের কাউন্সিলর তালিকায়। ফলে আলোচিত এই ব্যক্তিরা আসন্ন নির্বাচনে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ হারালেন।

অন্যদিকে বিভিন্ন ক্লাব থেকে বেশ কিছু পরিচিত মুখ কাউন্সিলর হিসেবে নাম জমা দিয়েছেন। আবাহনী লিমিটেড (Abahani Limited) থেকে কাউন্সিলর হয়েছেন ফাহিম সিনহা। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব (Mohammedan Sporting Club) থেকে এসেছেন মাসুদুজ্জামান। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের পক্ষে লুৎফর রহমান বাদল এবং প্রাইম ব্যাংকের হয়ে তানজিল চৌধুরী কাউন্সিলরশিপ জমা দিয়েছেন।

এ ছাড়া বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স থেকে তাসবির উল ইসলাম, ব্রাদার্স ইউনিয়ন থেকে ইশরাক হোসেন এবং পারটেক্স স্পোর্টিং ক্রিকেট ক্লাব থেকে আজিজ আল কায়সার কাউন্সিলর হয়েছেন। সিটি ক্লাব থেকে মইনুল হক মইন এবং উত্তরা ক্রিকেট ক্লাব থেকে ফায়াজুর রহমান মিতুও বোর্ডে নাম পাঠিয়েছেন।

ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব থেকে ইয়াসির ফয়সাল আশিক এবং ওল্ড ডিওএইচএস থেকে তামিম ইকবাল (Tamim Iqbal) কাউন্সিলর হয়েছেন। কাকরাইল বয়েজ ক্লাব থেকে সালাউদ্দিন চৌধুরী, ট্রাই স্টেট ক্রিকেটার্স থেকে আমজাদ হোসেন এবং আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব থেকে মির্জা ইয়াসির আব্বাস মনোনীত হয়েছেন কাউন্সিলর হিসেবে।

এক্সিউম ক্রিকেটার্স ক্রিকেট ক্লাব থেকে ইসরাফিল খসরু, ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্র থেকে রফিকুল ইসলাম বাবু এবং ঢাকা মেরিনার্স ইয়াংস ক্লাব থেকে শানিয়ান তানিমও বোর্ডে নাম পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি ফায়ার ফাইটার্স স্পোর্টিং ক্লাব থেকে সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ এবং প্রগতি সেবা সংঘ থেকে সাব্বির আহমেদ কাউন্সিলরশিপ জমা দিয়েছেন।

সাবেক ক্রিকেটারদের জন্য নির্ধারিত ‘সি’ ক্যাটাগরিতেও দেখা গেছে একঝাঁক পরিচিত মুখ। সেখানে কাউন্সিলর হয়েছেন নাঈম ইসলাম, সৈয়দ রাসেল, নাদিফ চৌধুরী, নাজমুল হোসেন, ডলার মাহমুদ, মাজহার উদ্দিন, শামসুর রহমান, নাজিম উদ্দিন, নাফিস ইকবাল খান এবং তালহা জুবায়ের।

সাবেক অধিনায়কদের মধ্য থেকেও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নাম এসেছে কাউন্সিলর তালিকায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন শফিকুল হক, গাজী আশরাফ হোসেন (Gazi Ashraf Hossain), খালেদ মাহমুদ সুজন, হাবিবুল বাশার এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও প্রতিনিধিরা কাউন্সিলর হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka) থেকে শাহাদাত হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেবব্রত পাল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিরাজউদ্দিন আলমগীর এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাহিদ হোসেন মনোনীত হয়েছেন।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকেও পাঁচজন কাউন্সিলরের নাম জমা পড়েছে। তারা হলেন কবির খান, রুহুল আমিন, সরফরাজ আহমেদ, সালাউদ্দিন হায়দার এবং জাহিদ পারভেজ চৌধুরী। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকেও কাউন্সিলরশিপ নিশ্চিত করা হয়েছে।

ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে সাইদ বিন জামান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে শহিদুর রহমান এবং রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে আমিনুল হক দেওয়ান এসেছেন। রংপুর বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে শামসুজ্জামান সামু, খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে শফিকুল ইসলাম, বরিশাল বিভাগীয় সংস্থা থেকে মিজানুর রহমান এবং সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে কাইয়ুম চৌধুরীও বিসিবির কাউন্সিলর তালিকায় জায়গা পেয়েছেন।