ইয়েমেনে মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপা’\তিতের দাবি, মরুভূমিতে ছড়িয়ে পড়ে ‘নিনজা মিসাইল’-এর ধ্বংসাবশেষ

ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন গু’\লি করে ভূপা’\তিত করেছে সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠী (Houthi Movement)—এমন দাবি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে।

সোমবার (১৮ মে) স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আনাদোলু এজেন্সি (Anadolu Agency)। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনার বিষয়ে হুথি গোষ্ঠী কিংবা মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে মরুভূমিতে বিধ্বস্ত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। একইসঙ্গে উদ্ধার হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের অংশবিশেষও নজর কেড়েছে সামরিক বিশ্লেষকদের। বিশেষ করে অত্যন্ত নিখুঁত নিশানার জন্য পরিচিত ‘নিনজা মিসাইল’-এর অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাওয়ার দাবি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মারিব শহরের আকাশে হঠাৎ করেই একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের ঠিক আগে শহরের পশ্চিমাঞ্চলীয় সারওয়াহ এলাকা থেকে একটি বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে দেখা যায়। এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে মাঝআকাশে পরপর দুটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে।

ইয়েমেনভিত্তিক স্থানীয় গণমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ডিফেন্স লাইন (Defense Line)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ মারিবের ওয়াদি জেলার পূর্বাঞ্চলের মরুভূমি এলাকায় গিয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থল থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন অংশ এবং পেলোডের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিফেন্স লাইনের সামরিক বিশ্লেষকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিগুলো পরীক্ষা করে দাবি করেছেন, সেখানে অন্তত দুটি ‘এজিএম-১১৪আর৯এক্স’ ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিকভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র ‘নিনজা মিসাইল’ নামে পরিচিত।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি মূলত মার্কিন ‘হেলফায়ার’ আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের একটি আধুনিক সংস্করণ, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয়েছে। প্রচলিত বিস্ফোরক ওয়ারহেডের বদলে এর বিশেষ নকশা লক্ষ্যবস্তুকে কাছ থেকে ধ্বং’\স করার সক্ষমতা রাখে।

ধ্বংসাবশেষের ধরন বিশ্লেষণ করে সামরিক পর্যবেক্ষকেরা ধারণা করছেন, ভূপা’\তিত হওয়া চালকবিহীন বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ বা বিমানবাহিনীর একটি ব্যয়বহুল ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র (United States) ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, নজরদারি এবং কৌশলগত সামরিক কার্যক্রমে এই ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে আসছে। বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকায় লক্ষ্যবস্তু পর্যবেক্ষণ ও নিখুঁত আ’\ক্রমণে এমকিউ-৯ রিপারকে মার্কিন বাহিনীর অন্যতম কার্যকর প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি