পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের খামারি সোহাগ মৃধার বাড়িতে এখন যেন ছোটখাটো মেলা বসছে। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন এক নজর দেখতে বিশাল আকৃতির আলোচিত ষাঁড় ‘কালো মানিক’কে। যে গরুটি একসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)-কে উপহার হিসেবে নেওয়া হয়েছিল, সেটিই এবার কোরবানির বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রায় ৪৫ মণ ওজনের এই বিশাল ষাঁড়টির দাম হাঁকা হয়েছে ২২ লাখ টাকা। প্রায় ১২ ফুট লম্বা ও ৬ ফুট উঁচু ‘কালো মানিক’কে দেখতে প্রতিদিনই মানুষের কৌতূহলী ভিড় জমছে। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ আবার বিস্ময়ভরা চোখে তাকিয়ে থাকছেন তার বিশাল দেহের দিকে। স্থানীয় এলাকাজুড়েও এখন গরুটিকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
খামারি সোহাগ মৃধা (Sohag Mridha) গণমাধ্যমকে জানান, প্রায় সাত বছর ধরে সন্তানের মতো করেই তিনি ‘কালো মানিক’কে লালন-পালন করেছেন। ২০১৮ সালে স্থানীয় চৈতা বাজার (Choita Bazar) থেকে এক লাখ ৩৭ হাজার টাকায় একটি গাভি কেনেন তিনি। পরে সেই গাভির জন্ম দেওয়া বাছুরটিকেই ধীরে ধীরে যত্নে বড় করতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাছুরটির আকৃতি অস্বাভাবিক বড় হতে শুরু করলে তার নাম রাখা হয় ‘কালো মানিক’।
সোহাগ মৃধার দাবি, সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে দানাদার খাবার খাইয়ে গরুটিকে বড় করা হয়েছে। প্রতিদিন এর পেছনে প্রায় এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। তিনি বলেন, “ভালো দাম পেলে এবার গরুটি বিক্রি করব।”
তিনি আরও জানান, গত বছরের ৫ জুন ‘কালো মানিক’কে উপহার হিসেবে ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)-এর চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য। পরে তিনি গরুটি গ্রহণ করলেও সেটি পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।
সোহাগ মৃধার স্ত্রী সুলতানা বেগম (Sultana Begum) বলেন, অনেক যত্ন, সময় আর মায়া দিয়ে গরুটিকে বড় করা হয়েছে। এখন তাদের প্রত্যাশা, কোরবানির বাজারে ‘কালো মানিক’-এর উপযুক্ত মূল্য মিলবে।


