ভারত (India)-এর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। এবার ঈদুল আজহার আগে রাজ্যজুড়ে গরুর মাংস কাটা ও বেচাকেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মে মাসের শেষ সপ্তাহে মুসলিমদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা সামনে রেখে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বিজেপির সদ্য নির্বাচিত এমএলএদের রাস্তায় সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশুবাহী যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই করার ঘটনাও ঘটছে।
বর্তমানে কলকাতা (Kolkata)-র অনেক রেস্তোরাঁয় গরুর মাংস বা গরুর মাংস দিয়ে তৈরি খাবার প্রায় পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো গবাদিপশু জবাই করা যাবে না। এছাড়া গবাদিপশু জবাইয়ের আগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অথবা পশ্চিমবঙ্গের প্রাণিসম্পদ দপ্তরের লিখিত অনুমতি নিতে হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে কার্যত রাজ্যজুড়ে গরু কেনাবেচার বাজার স্থবির হয়ে পড়েছে। শুধু মুসলিম সম্প্রদায় নয়, ক্ষতির মুখে পড়েছেন বহু হিন্দু খামারি ও ব্যবসায়ীও।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন হিন্দু গরুর খামারি ও ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, বছরের এই সময়টাতেই তারা সবচেয়ে বেশি গরু বিক্রি করেন এবং সেখান থেকেই সারা বছরের বড় অংশের আয় আসে। কিন্তু হঠাৎ এই নিষেধাজ্ঞায় তাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
উত্তর চব্বিশ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ এলাকা থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজেপির স্থানীয় বিধায়ক রেখা পাত্র (Rekha Patra) রাস্তায় গবাদিপশুবাহী গাড়ি আটকে গরুর ‘জন্মসনদ’ দেখতে চান।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, শনিবার লেবুখালী এলাকায় একটি গবাদিপশুবাহী গাড়ি থামিয়ে গরুগুলোর জন্মসংক্রান্ত নথি দেখানোর দাবি জানান তিনি। তার বক্তব্য ছিল, সরকার ১৪ বছরের কম বয়সী গরু জবাই নিষিদ্ধ করেছে, তাই গরুর বয়স প্রমাণে ‘বার্থ সার্টিফিকেট’ দেখাতে হবে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর নেতা কুনাল ঘোষ। তিনি বলেন, “বিজেপিশাসিত কোনো রাজ্যের অন্তত একটি গরুর ‘জন্মসনদ’ আমাদের দেখান, তাহলে সেটিকে আমরা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারব।”
নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলোতে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি বাড়ছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি। একই সঙ্গে বিষয়টি রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনাকেও আরও উসকে দিয়েছে।


