হজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আর আরাফার ময়দান থেকে প্রচারিত হজের খুতবা মুসলিম বিশ্বের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আবেগঘন একটি আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতি বছর বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান গভীর আগ্রহ ও অনুভূতি নিয়ে এই খুতবা অনুসরণ করেন।
প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে এখন আর হজের খুতবা শুধু মক্কা বা আরাফার ময়দানে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত মুসলমানরা নিজ নিজ ভাষায় সরাসরি এই খুতবা শোনার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে ইসলামের শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা আরও বিস্তৃতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
২০২৬ সালের হজকে সামনে রেখে এ উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে গেছে দুই পবিত্র মসজিদের ধর্মীয় বিষয়ক জেনারেল প্রেসিডেন্সি (General Presidency for the Affairs of the Two Holy Mosques)। এবার হজের মূল খুতবা বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় সরাসরি অনুবাদ ও সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই খুতবা বিশ্বব্যাপী লাইভ প্রচার করা হবে।
দুই পবিত্র মসজিদের ধর্মীয় সেবায় সৌদি আরব (Saudi Arabia)-এর ভূমিকা নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এ ঘোষণা দেন শায়খ আবদুর রহমান আস-সুদাইস (Abdul Rahman Al-Sudais)।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের ঐতিহাসিক হজের খুতবা মসজিদে নামিরাহ (Masjid Namirah) থেকে প্রদান করবেন শায়খ আলী হুজাইফি (Ali Al-Hudhaifi)। তিনি মসজিদে নববীর ইমাম ও প্রবীণ আলেম হিসেবে মুসলিম বিশ্বে সুপরিচিত।
যেসব ভাষায় খুতবা অনুবাদ ও সম্প্রচার করা হবে, তার মধ্যে রয়েছে বাংলা, ইংরেজি, ফরাসি, ইন্দোনেশীয়, উর্দু, তুর্কি, ফার্সি, স্প্যানিশ, চীনা, রুশ, হিন্দি, মালয়, আমহারিক, হাউসা, সোয়াহিলি, সোমালি, পশতু, পাঞ্জাবি, তামিল, ফিলিপিনো, বসনিয়ান, জার্মান, ইতালীয়, পর্তুগিজ, সুইডিশ, উজবেক, তাজিক, নেপালি, সিংহলি, মালয়ালম, ওরোমো, তিগরিনিয়া, ইওরুবা, উগান্ডান ও লিথুয়ানিয়ান ভাষা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা নিজেদের ভাষায় হজের খুতবা আরও সহজে শুনতে ও বুঝতে পারবেন। এর মাধ্যমে হজের শিক্ষা, ইসলামের সার্বজনীন বার্তা এবং মানবতার আহ্বান আরও বিস্তৃতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।
বিশেষ করে বাংলাভাষী মুসলমানদের জন্য এটি হজের খুতবা সরাসরি উপলব্ধি ও অনুধাবনের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রযুক্তির সহায়তায় ইসলামের বার্তা এখন আরও সহজে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে বলেও মত দিয়েছেন অনেকে।


