পরমাণু কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে ইরান (Iran)। কোনো অবস্থাতেই দেশের সংরক্ষিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাতে রাজি নয় তেহরান। ইরানের এই কঠোর অবস্থান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র (Iran-United States) চুক্তির সম্ভাবনাকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি (Ayatollah Mojtaba Khamenei) নির্দেশ দিয়েছেন, দেশটির হাতে থাকা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যেন বিদেশে পাঠানো না হয়। বর্তমানে ইরানের কাছে ৪৪০ কেজির বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠিয়ে দিলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। মূলত যুদ্ধ শুরুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর ধারাবাহিক হু’\মকির মুখে তেহরান তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসে আরও কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও ট্রাম্প সামরিক আক্রমণের হু’\মকি অব্যাহত রেখেছেন। বুধবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “সঠিক জবাব না পেলে খুব শিগগির ইরান আবার হামলার শিকার হবে।” একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আবারও আক্রমণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের জবাবে ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রুশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দেশটির হাতে এমন অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে যা আগে কখনো যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়নি। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে, সম্ভাব্য নতুন হামলার বিপরীতে তেহরান ভয়াবহ পাল্টা প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর থেকে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একাধিক প্রস্তাব আদান-প্রদান হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। ইরানের পাঠানো ১৪ দফা প্রস্তাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের জবাব বর্তমানে পর্যালোচনা করছে তেহরান।
এই অচলাবস্থা নিরসনে আসিম মুনির (Asim Munir) তেহরান সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হিসেবে তার এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা কমিয়ে একটি স্থায়ী সমঝোতার পথ তৈরি করা।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই পক্ষই এখন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের পরমাণু সক্ষমতা সীমিত করতে, সেখানে ইরান নিজেদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। ফলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।


