বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম (Mir Shahe Alam)-এর আনা অভিযোগের জবাবে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party-NCP)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া (Asif Mahmud Sajib Bhuiyan)।
শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
লাইভে আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রতিমন্ত্রীর আনা অভিযোগের বিষয়ে আরও স্পষ্টতা প্রয়োজন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যে ফাইল নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে সেটি জনগণের সামনে প্রকাশ করা উচিত। তিনি বলেন, কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে জনগণের তা জানার অধিকার রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট ফাইলটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অভিযোগের আইনি দিক ব্যাখ্যা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, কোনো সচিব বিদেশে অবস্থান করলে বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থাকলে প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। এ ধরনের সিদ্ধান্তও মন্ত্রী বা উপদেষ্টার অনুমোদনের মাধ্যমেই কার্যকর হয়। ফলে এমন কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়ে থাকলে সেখানে আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন না।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি প্রকল্পের ফাইল সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই অনুমোদন করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগ (Local Government Division) এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন কমিটির কার্যক্রমে আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকার আমলের বিষয়গুলো তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী পিরোজপুরের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও তুলে ধরেন। তার দাবি, পিরোজপুরে একটি প্রকল্পের টেন্ডার দেওয়ার পর কোনো কাজ বাস্তবায়ন না করেই ৬ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর ফলে গত দুই বছর ধরে জেলার সব উন্নয়ন প্রকল্প কার্যত বন্ধ রয়েছে। তিনি জানান, শিগগিরই পিরোজপুর (Pirojpur) সফর করে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করা হবে এবং বন্ধ থাকা প্রকল্পগুলো চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া দেশের আরও বিভিন্ন জেলায় রাস্তা ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম ও দু’\র্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
