চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন রেকর্ডের পথে চীন, ‘শেনঝৌ-২৩’ মিশনে এক বছরের মহাকাশযাত্রা

২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ গবেষণায় আরও এক ধাপ এগোচ্ছে চীন। সেই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় রবিবার রাত ১১টা ০৮ মিনিটে উত্তর-পশ্চিম চীনের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র (Jiuquan Satellite Launch Center) থেকে ‘লং মার্চ-২এফ ওয়াই২৩’ রকেটের মাধ্যমে শেনঝৌ-২৩ (Shenzhou-23) মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হবে।

এই মিশনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তিনজন নভোচারী তিয়াংগং (Tiangong) মহাকাশ স্টেশনে টানা এক বছর অবস্থান করবেন। এর মধ্য দিয়ে চীনের মহাকাশ কর্মসূচিতে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতির ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মিশনের দলে রয়েছেন কমান্ডার ঝু ইয়াংঝু (Zhu Yangzhu), পাইলট ঝাং ইউয়ানঝি এবং পেলোড স্পেশালিস্ট লি জিয়াইং (Li Jiaying)। এই অভিযানের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো হংকং থেকে কোনো নভোচারী চীনের এমন একটি মহাকাশ মিশনে অংশ নিচ্ছেন। সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা লি জিয়াইংয়ের অন্তর্ভুক্তি তাই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

চীনের এই দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযান কেবল প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য নয়, বরং মানুষের শরীর ও মনের ওপর মহাকাশ পরিবেশের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বোঝার লক্ষ্যেও পরিচালিত হচ্ছে। গবেষণার আওতায় থাকবে বিকিরণের প্রভাব, হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া, মানসিক চাপ এবং দীর্ঘ সময় মহাকাশে বসবাসের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ আবাসনের বাস্তব সক্ষমতা যাচাই করাও এই মিশনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র (United States) ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ অবতরণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। অন্যদিকে চীন ২০৩০ সালের লক্ষ্য সামনে রেখে নিজস্ব প্রস্তুতি জোরদার করছে। শুধু চাঁদে অবতরণই নয়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ২০৩৫ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে চাঁদে একটি স্থায়ী ঘাঁটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যও রয়েছে বেইজিংয়ের।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স