রামিসা মামলায় আজ চার্জশিট, আদালতে আনা হয়েছে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধ’\র্ষণের পর হ’\ত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। বহুল আলোচিত এই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) রোববার আদালতে জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অভিযোগপত্র ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার পর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আইনগত প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চার্জশিট জমা হওয়ার পর আজই দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হতে পারে। এরপর মামলাটি দ্রুত বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বর্তমানে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা (Sohel Rana)-কে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। অন্যদিকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার (Swapna Akter) মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রয়েছেন।

এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের নবনিযুক্ত বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু (Advocate Azizur Rahman Dulu) সকালে আদালতে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের জানান, আজই অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে এবং বিচারকাজ দ্রুত শুরু করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার (১৯ মে)। সেদিন রাজধানীর পল্লবী (Pallabi) এলাকার ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তে উঠে আসে, একই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে বসবাসকারী সোহেল রানা শিশুটিকে ধ’\র্ষণের পর নৃশংসভাবে হ’\ত্যা করে। ঘটনার পর অপরাধের আলামত গোপনের চেষ্টা চালানো হয় বলেও তদন্তকারীদের ধারণা। পরে ফ্ল্যাটের গ্রিল কেটে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে সে। এ সময় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বাসাতেই অবস্থান করছিলেন।

ঘটনার পরপরই পুলিশ স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ (Narayanganj)-এর ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়। ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তদন্ত শেষ করে চার্জশিট জমা দেওয়ার উদ্যোগকে মামলাটির গুরুত্ব ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।