সাভারে এআই ট্রাফিক মামলার ভুয়া মেসেজে আতঙ্ক, প্রতারণার নতুন ফাঁদে গাড়িমালিকরা

রাজধানীর বাইরে এখনো এআইভিত্তিক ট্রাফিক মামলা কার্যক্রম শুরু না হলেও ঢাকার সাভার এলাকায় গাড়িমালিকদের মোবাইলে আসছে জরিমানা ও মামলা সংক্রান্ত ভুয়া বার্তা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নজরদারির নামে এই প্রতারণামূলক মেসেজ পাঠিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে একটি চক্র— এমনটাই জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত করতে এআই চালিত নজরদারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেই বাস্তব ঘটনাকেই কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা এখন সাধারণ পরিবহন মালিকদের টার্গেট করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গাড়িমালিকদের মোবাইলে পাঠানো এসব বার্তায় নিজেদের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA) পরিচয়ে বলা হচ্ছে— “ইন্টেলিজেন্ট ভিডিও নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে” এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ না করলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার্তাগুলোর সঙ্গে একটি ওয়েবসাইটের লিংকও পাঠানো হচ্ছে, যেখানে প্রবেশ করে জরিমানা পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই ওয়েবসাইটের সঙ্গে সরকারি কোনো সংযোগ নেই। বরং এটি বিআরটিএ’র আসল ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি একটি ভুয়া প্ল্যাটফর্ম।

অন্তত দু’জন গাড়িমালিকের ফোনে আসা মেসেজের নম্বর যাচাই করে দেখা গেছে, সেগুলোর আন্তর্জাতিক ডায়াল কোড (+৬৩), যা ফিলিপাইন (Philippines)-এর।

সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানা জানান, শনিবার বিকেলে তিনি একটি মেসেজ পান। সেখানে দাবি করা হয়, তার গাড়ি সাভারে ট্রাফিক আইন ভেঙেছে। অথচ সেদিন তার গাড়িটি ঢাকাতেই ছিল।

তিনি বলেন, “ওয়েবসাইটে ঢুকে গাড়ির নম্বর দিলে দেখাচ্ছিল মামলা হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে বুঝতে পারি এটা সম্পূর্ণ ভুয়া।”

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সাভারের একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন খান আনু। তার দাবি, কয়েক মাস ধরেই গাড়িটি ব্যবহারই করা হয়নি। তারপরও জরিমানার মেসেজ এসেছে।

তিনি বলেন, “প্রথমে ভেবেছিলাম সত্যি মামলা হয়েছে। পরে বুঝলাম এটা প্রতারণা।”

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সাকের উজ্জামান বলেন, সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইট সাধারণত ‘gov.bd’ ডোমেইনে পরিচালিত হয়। কিন্তু প্রতারকদের পাঠানো ওয়েবসাইটের ঠিকানায় সেই বৈশিষ্ট্য নেই। পাশাপাশি বিদেশি নম্বর ব্যবহার করাও সন্দেহজনক।

তিনি বলেন, “শুধু নম্বর দেখলেই বোঝা যায় এটি সরকারি বার্তা নয়। মানুষকে সচেতন হতে হবে। কোনো লিংকে প্রবেশ বা টাকা পাঠানোর আগে অবশ্যই যাচাই করা জরুরি।”

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (DMP)-এর বাইরে এখনো এআইভিত্তিক ট্রাফিক মামলা চালু হয়নি বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম।

তার ভাষায়, “এআই মামলা কার্যক্রম বর্তমানে শুধু ঢাকা মহানগরে সীমিত। সাভার বা ঢাকা জেলায় এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা চালু হয়নি। ফলে এসব মেসেজ প্রতারণার অংশ বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে এবং কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের আগে সরকারি সূত্র থেকে নিশ্চিত হতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা যত বাড়ছে, ততই সেই প্রযুক্তির নাম ব্যবহার করে প্রতারণার নতুন কৌশলও তৈরি হচ্ছে। তাই শুধু প্রযুক্তি চালু করলেই হবে না, এর সঙ্গে জনসচেতনতা ও সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সমানভাবে জোরদার করতে হবে।