গাজামুখী সহায়তা বহরে আটক অস্ট্রেলীয় অ্যাক্টিভিস্টদের নি’\র্যা’\তনের অভিযোগ, চাপে ইসরায়েল

গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাওয়া একটি নৌবহর থেকে আটক হওয়ার পর দেশে ফিরে আসা কয়েকজন অস্ট্রেলীয় অ্যাক্টিভিস্ট ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর নি’\র্যা’\তনের অভিযোগ তুলেছেন। আন্তর্জাতিক জলসীমায় অভিযানের মাধ্যমে নৌবহরটি আটকের ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অ্যাক্টিভিস্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা গাজার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একটি মানবিক সহায়তা মিশনের অংশ ছিলেন। ওই নৌবহরে প্রায় ৪০টি দেশের ৪৩০ জনের মতো স্বেচ্ছাসেবক অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে ১১ জন ছিলেন অস্ট্রেলিয়া (Australia)-এর নাগরিক।

দেশে ফিরে আসা কয়েকজন অ্যাক্টিভিস্ট অভিযোগ করেন, আটক অবস্থায় তাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। একজন জানান, তাকে মা’\রধ’\র করা হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। কয়েক দিন ধরে তাকে কঠিন ও অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতিতে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

আরেকজন অ্যাক্টিভিস্ট বলেন, তিনি নিজেও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং অন্যদের ওপর টেজার ও রাবার বুলেট ব্যবহারের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছেন। তাদের দাবি, আটক ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখাতে বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ইসরায়েল (Israel)-এর কারা কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য, আটক হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো ধরনের অসদাচরণ বা নি’\র্যা’\তন করা হয়নি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারেই তাদের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে মানবিক সহায়তা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আরও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা দাবি করেছে, অন্তত ১৫টি ক্ষেত্রে যৌন নি’\র্যা’\তনের অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি।

ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Australian Department of Foreign Affairs and Trade)-এর পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে “চমকে দেওয়ার মতো” এবং “অগ্রহণযোগ্য” বলে বর্ণনা করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজাকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মানবিক সহায়তা বহর আটকের এই ঘটনা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অভিযান এবং আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

সূত্র: রয়টার্স (Reuters)