রাজসিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর, ভাইরাল মহিষকে ঘিরে আবেগে ভাসল খামার

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে আসা ভাইরাল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)’-কে রাজসিক সংবর্ধনার মাধ্যমে বিদায় জানিয়েছে রাবেয়া এগ্রো ফার্ম (Rabeya Agro Farm)-এর মালিকপক্ষ। সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় মহিষটির নতুন মালিক সেটিকে খামার থেকে নিয়ে যেতে এলে বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে পশুটিকে বিদায় জানানো হয়।

এই ব্যতিক্রমী বিদায় অনুষ্ঠানকে ঘিরে দুপুর থেকেই নারায়ণগঞ্জ (Narayanganj) শহরের পাইকপাড়ায় অবস্থিত খামারটিতে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। খামারের কর্মীরা প্রথমে বিরল এলভিনো জাতের মহিষটিকে যত্নসহকারে গোসল করিয়ে বিদায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। পরে রাজকীয় সাজে সজ্জিত করে রঙিন স্মোকের মধ্য দিয়ে লাল গালিচা ধরে হাঁটিয়ে গাড়িতে তোলা হয় তাকে।

এ সময় খামারের মালিকপক্ষ, কর্মচারী এবং সেখানে উপস্থিত অসংখ্য দর্শনার্থী আবেগঘন পরিবেশের মধ্যে প্রিয় পশুটিকে বিদায় জানান। অনেকেই স্মার্টফোনে সেই মুহূর্ত ধারণ করেন, আবার কেউ কেউ শেষবারের মতো কাছ থেকে দেখার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি।

খামার সূত্রে জানা যায়, বিরল এলভিনো জাতের এই মহিষটির গায়ের রঙ, চুলের ধরন এবং চোখের গঠন অনেকের কাছেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর অবয়বের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। সেই অদ্ভুত মিল থেকেই খামারের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই আদর করে এর নাম রাখেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। নামকরণের পর থেকেই পশুটি স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিতি পেতে শুরু করে, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির এই মহিষটি কোরবানির পশুর হাট জমে ওঠার আগেই প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে কিনে নেন জিনজিরা (Jinjira) এলাকার বাসিন্দা সামির। তবে বিক্রির পর পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন মোড় নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশুটির ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এটি আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। এরপর প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শুধুমাত্র একনজর মহিষটিকে দেখার জন্য খামারে ভিড় করতেন।

রাবেয়া এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন মৃধা (Ziauddin Mridha) বিদায় মুহূর্তের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে এভাবে বিদায় জানাতে সত্যিই কষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে লালন-পালন করা পশুর সঙ্গে এক ধরনের সম্পর্ক তৈরি হয়। তবে কোরবানির মূল শিক্ষা যেহেতু ত্যাগ, তাই সেই ত্যাগের মহিমাকেই সম্মান জানিয়ে হাসিমুখে তাকে বিদায় দিতে হচ্ছে।

অন্যদিকে ক্রেতা সামির জানান, তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অনেক আগেই মহিষটি কিনেছিলেন। পরে এটি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। বর্তমানে জিনজিরা এলাকায় মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে কাছ থেকে দেখার জন্য স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি জানান।