ঈদকে সামনে রেখে শেরপুর সরকারি বালিকা শিশু পরিবারের এতিম কিশোরীদের মুখে হাসি ফোটাতে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন (Rokto Shoinik Bangladesh Foundation)। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে সংগঠনটির উদ্যোগে শিশু পরিবারের সদস্যদের হাতে মেহেদী পরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের মাঝে বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
শেরপুর সরকারি বালিকা শিশু পরিবারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কিশোরীদের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ। পরিবারের স্নেহ-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত এসব শিশুর মুখে কিছুটা আনন্দ তুলে দিতে সংগঠনের সদস্যরা দিনভর তাদের সঙ্গে সময় কাটান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা রাজিয়া সামাদ ডালিয়া (Rajia Samad Dalia)।
রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আল আমিন রাজু (Al Amin Raju)-র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রক্তসৈনিক শেরপুরের উপদেষ্টা ও শেরপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী সভাপতি কবি রফিক মজিদ, উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও নবারুণ স্কুলের একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর আবুল কালাম আজাদ, তাহমিনা জলি, সমাজকর্মী মো. মামুনুর রশীদ, শিশু পরিবারের সহকারী শিক্ষক তানজিনা আক্তার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর জান্নাতুল প্রিয়া, রক্তসৈনিক শেরপুর পৌর সাধারণ সম্পাদক রকিব আহমেদ অন্তরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
মেহেদী উৎসবে অংশ নেওয়া শিশু পরিবারের কিশোরীরা আনন্দ প্রকাশ করে জানায়, পরিবারের অভাবে তারা সাধারণত ঈদের আনন্দ সেভাবে উপভোগ করতে পারে না। প্রতি বছরের মতো এবারও রক্তসৈনিকের সদস্যরা এসে তাদের হাতে মেহেদী পরিয়ে দিয়েছেন এবং উপহার সামগ্রী দিয়েছেন, যা তাদের খুব আনন্দ দিয়েছে।
রাজিয়া সামাদ ডালিয়া বলেন, “এখানে থাকা শিশুরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আশ্রয় নিয়েছে। লেখাপড়া ও খাওয়াদাওয়ার সুযোগ পেলেও পরিবারের ভালোবাসা থেকে তারা বঞ্চিত। তাই প্রতি বছরের মতো এবারও আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। তাদের মুখের হাসিই আমাদের তৃপ্তি।”
আল আমিন রাজু বলেন, “মানবতার কল্যাণে আমরা সবসময় কাজ করে যাচ্ছি। ঈদের আনন্দ এতিম শিশুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পেরে আমরা গর্ববোধ করছি। সামান্য এই আয়োজন তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছে, এটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি।”
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


