ঢালিউডের এক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত জুটিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিলেন শাকিব খান (Shakib Khan) ও অপু বিশ্বাস (Apu Biswas)। প্রেম, গোপন বিয়ে, সন্তান জন্মের ঘোষণা এবং পরবর্তী বিচ্ছেদ—সবকিছু মিলিয়ে তাদের ব্যক্তিগত জীবন দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
বর্তমানে তারা আলাদা জীবনযাপন করলেও অতীতের নানা স্মৃতি মাঝেমধ্যেই আলোচনায় উঠে আসে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের গোপন বিয়ের দিনের অজানা কিছু স্মৃতি শেয়ার করেছেন অপু বিশ্বাস।
অভিনেত্রী জানান, বিয়ের দিন তিনি পরিবারের কাছে পার্লারে যাওয়ার কথা বলে গুলশানে শাকিব খানের পাঁচতলার বাসায় যান। সেদিন শাকিবের ফুপাতো ভাইয়ের মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে পরিবারের প্রায় সবাই বাইরে দাওয়াতে ছিলেন। ফলে বিকেলের দিকে পুরো বাসা প্রায় ফাঁকা ছিল। সেই সুযোগেই কাজী ডেকে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
সেই দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অপু বলেন, ‘আমার বিয়ের লেহেঙ্গাটা খাটের নিচে লুকানো ছিল। আর আমার যে গহনাগুলো ছিল, সেগুলো শাকিবের পোশাক রাখার একটি ব্যাগের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।’
তিনি আরও জানান, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যার আগেই তাকে নিজের বাসায় ফিরে যেতে হয়েছিল। কারণ তার সঙ্গে মেজো বোন ছিলেন এবং পার্লারে যাওয়ার কথা বলে বের হওয়ায় পরিবারের দেওয়া সময়ের মধ্যেই বাসায় ফেরার চাপ ছিল।
অপু বিশ্বাসের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পরদিন থেকেই তাদের আউটডোর শুটিং শুরু হয়ে যায়। তবে বিয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রাখার কারণে তারা আলাদা আলাদাভাবে নিজেদের বাসায় থাকতেন এবং স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি কাউকে জানতে দেননি।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু আচরণ পরিবারের সদস্যদের সন্দেহের কারণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বিভিন্ন আউটডোর শুটিংয়ে একসঙ্গে থাকা এবং তাদের ঘনিষ্ঠতা দেখে অপুর মায়ের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়।
এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, তার মা প্রায়ই বলতেন, ‘এটা কেমন দেখায়, খুব অভদ্রতা!’ এরপর বিভিন্ন সময় বকাঝকা ও পারিবারিক আলোচনার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে বিষয়টি সামনে আসে।
অপু জানান, বিয়ের প্রায় ছয় মাস পর তার মা জানতে পারেন যে তারা এরই মধ্যে বিয়ে করে ফেলেছেন। পরে তাদের সংসারে জন্ম নেয় ছেলে আব্রাম খান জয় (Abram Khan Joy), যাকে ঘিরে তাদের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল।
যদিও সেই সম্পর্ক পরবর্তীতে বিচ্ছেদে গড়িয়েছে, তবুও গোপন বিয়ের সেই দিনগুলোর স্মৃতি এখনও অপু বিশ্বাসের কাছে বিশেষ এক অধ্যায় হয়ে রয়েছে।


