‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ বিতর্কের জেরে জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর বদলি

জাতীয় চিড়িয়াখানার বহুল আলোচিত অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর নামের বানান ভুল লেখা এবং এ ঘটনাকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কের পর চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, শুধু বানানগত ভুলই নয়, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর নামে একটি প্রাণীর নাম প্রদর্শনের বিষয়টিও প্রশাসনিক মহলে অস্বস্তির কারণ হয়ে ওঠে। পরে সেই নাম আবার ভুলভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনাটি উচ্চপর্যায়ে নজরে আসার পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ-৪ শাখা থেকে গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) জারি করা প্রজ্ঞাপনে ডা. মো. আতিকুর রহমানকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (Department of Livestock Services)-এর পরিচালক (সমমান) পদে বদলি করা হয়। তাকে অধিদপ্তরের লিভ, ডেপুটেশন অ্যান্ড ট্রেনিং রিজার্ভ (এলডিটিআর) পদে সংযুক্ত করা হয়েছে।

একই প্রজ্ঞাপনে এলডিটিআর পদে কর্মরত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সমমান) ডা. মো. হাবিবুর রহমানকে জাতীয় চিড়িয়াখানা (National Zoo)-এর নতুন কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বদলির নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে সেখানে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ রদবদল কার্যকর করা হয়েছে।

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে কোরবানির পশুর হাটে ব্যাপক আলোচনায় আসে প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের বিরল অ্যালবিনো মহিষটি। গোলাপি-সাদা রঙের এই মহিষটির অস্বাভাবিক শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে খামারিরা এর নাম রাখেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। বিষয়টি দ্রুত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

পরবর্তীতে মহিষটিকে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ক্রেতাকে অর্থ পরিশোধ করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা (Keraniganj Model Police Station) পুলিশের মাধ্যমে প্রাণীটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করা হয়।

চিড়িয়াখানায় প্রদর্শনের সময় মহিষটির পরিচিতি ফলকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর বানান ভুল করে ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’ লেখা হয়। ফলকের সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে ফলকের বানান সংশোধন করা হলেও পরবর্তী সময়ে প্রাণীটির নাম পরিবর্তন করে ‘সাদা মহিষ’ রাখা হয়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, একটি প্রাণীর নাম মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামে রাখা শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিল। সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেই নাম প্রদর্শন এবং পরবর্তীতে বানানগত ভুল পরিস্থিতিকে আরও বিব্রতকর করে তুলেছে।

মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা জানান, পুরো ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় নিয়েই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নামে প্রাণীর নাম প্রদর্শন এবং পরে তা ভুলভাবে উপস্থাপন—উভয় বিষয়ই বদলির সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।