রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধ’\র্ষণ ও হ’\ত্যার মামলায় নতুন করে ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে একাধিকবার তার নাম উল্লেখ করলেও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ কিংবা ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণে এখন পর্যন্ত ডলার নামের ওই ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ডলারের বাড়ি পল্লবী (Pallabi) এলাকায়। যে বাসায় শিশু রামিসাকে ধ’\র্ষণ ও হ’\ত্যা করা হয়েছে, তার কয়েকটি বাড়ি পরেই তিনি বসবাস করেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ডলার পেশায় অটোরিকশাচালক এবং মাদকাসক্ত। একই এলাকায় রিকশার গ্যারেজে মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন সোহেল রানা। সেই সূত্রেই তাদের মধ্যে পরিচয় গড়ে ওঠে।
স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, ডলারের ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থা ভালো না হলেও তাদের পারিবারিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছল। পরিবারের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। নেশার খরচ জোগানোর জন্য তিনি অটোরিকশা চালাতেন বলে জানা গেছে। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।
ডলারের বড় ভাই সেলিম রায়হান (Selim Raihan) গণমাধ্যমকে বলেন, প্রায় ১৯ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে ডলারের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি নিজের মতো চলাফেরা করেন এবং মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে পরিবারের সদস্যরাও তাকে এড়িয়ে চলেন। তবে রামিসা হ’\ত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার আদালতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মামলার আসামি সোহেল রানা দাবি করেন, ‘রামিসাকে ধ’\র্ষণ করেছে ডলার, মারছেও সে। আমি শুধু লাশ গুম করতে চেয়েছি। মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে আমাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল ডলার।’
তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান ভূঁইয়া (Wahiduzzaman Bhuiyan), যিনি পল্লবী থানা (Pallabi Police Station)-এর উপপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, বলেন, ‘তদন্ত চলাকালে ডলারের বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ মেলেনি। ডিজিটাল তদন্তেও তার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। সে কারণেই অভিযোগপত্রে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।’
এদিকে শিশু রামিসা আক্তার হ’\ত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সোমবার সকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল (Dhaka Metropolitan Children Repression Tribunal)-এর বিচারক মাসরুর সালেকীনের এজলাসে। মামলার স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন এবং আদালতে ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরদিন প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
