চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে ‘গুপ্ত জামায়াত’ হওয়ার অভিযোগ তুলে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন জেলা পরিষদ প্রশাসক হারুনুর রশিদ (Harunur Rashid)। তার দাবি, জেলা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের অধিকাংশই নির্বাচনের সময় দলের পক্ষে কাজ না করে বরং জামায়াতকে সহায়তা করেছেন।
গত শনিবার জেলা ছাত্রদল আয়োজিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman)-এর ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
হারুনুর রশিদ বলেন, বর্তমান জেলা বিএনপির দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারা সবাই গুপ্ত জামায়াতের সদস্য। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, তাদের কেউই বিএনপির ভোট করেননি। বিষয়টি তদন্তের জন্য তিনি দলের চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বান জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত নির্বাচনে তিনি, শাহজাহান মিঞা ও আমিনুল প্রার্থী ছিলেন, কিন্তু নেতৃত্বে থাকা কিছু ব্যক্তি নির্বাচনী কার্যক্রমে সহযোগিতা না করে রাস্তা অবরোধ ও মশাল মিছিল করেছেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হারুনুর রশিদ আরও বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে এবং ব্যক্তিপূজা বা চামচামির রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে হবে। তিনি বলেন, তাদের প্রজন্মের রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে এলেও আগামী প্রজন্ম যেন আদর্শ ও নৈতিকতা নিয়ে বেড়ে ওঠে, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে হারুনুর রশিদ বলেন, ‘আমি যা বক্তব্য দিয়েছি, সেটাই আমার বক্তব্য। এর বাইরে আর কিছু বলার প্রয়োজন মনে করি না।’
অন্যদিকে হারুনুর রশিদের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রফিকুল ইসলাম (Rafiqul Islam), যিনি রফিক চাইনিজ নামেও পরিচিত এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় রফিকুল ইসলাম বলেন, হারুনুর রশিদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। তিনি দাবি করেন, ২০২১ সালে তারেক রহমান (Tarique Rahman) জেলা বিএনপির কমিটি অনুমোদন দেওয়ার পর থেকে নেতারা প্রকাশ্যে দলীয় কর্মকাণ্ড, আন্দোলন ও সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। তাই কাউকে ‘গুপ্ত’ বললেই তিনি গুপ্ত হয়ে যান না।
রফিকুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, বরং হারুনুর রশিদই প্রকৃতপক্ষে গুপ্ত রাজনীতি করেন। তার দাবি, অতীতে সংসদে বিভিন্ন বক্তব্যে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার প্রশংসা করে তিনি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এছাড়া ৫ আগস্টের পর নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘গুপ্ত হওয়ার কারণেই বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। নির্বাচনে তিনি ৬৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।’
এদিকে জেলা বিএনপির সদস্য এবং সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ওবায়েদ পাঠান (Obaid Pathan) বলেন, জেলা বিএনপি কখনও গুপ্ত সংগঠন হিসেবে কাজ করে না। তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করেই রাজনীতি করে। তার মতে, গুপ্ত রাজনীতির অভিযোগ বরং হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধেই বেশি প্রযোজ্য। তিনি দাবি করেন, অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে গুপ্ত আওয়ামী লীগ ও গুপ্ত জামায়াতের সঙ্গে আঁতাতের রাজনীতি হয়েছে।
হারুনুর রশিদের বক্তব্য এবং বিএনপি নেতাদের পাল্টা প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।


