রামিসা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড, ৭ লাখ টাকা জরিমানা পাবেন আইনগত উত্তরাধিকারীরা

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় শিশু রামিসাকে ধ’\র্ষ’\ণে’\র পর নৃশংসভাবে হ’\ত্যা’\র ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, মোট ৭ লাখ টাকার এই অর্থ ভুক্তভোগী রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল (Dhaka Metropolitan Child Violence Suppression Tribunal)-এর বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত বলেন, আসামিরা জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আদায় করতে হবে। পরে সেই অর্থ ভুক্তভোগীর আইনগত উত্তরাধিকারীদের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কালেক্টরেট অফিসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই ফ্ল্যাটে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত শেষে ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়, ২৪ মে পল্লবী থানা (Pallabi Police Station)-এর উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একইদিন মামলাটি বিচারের জন্য শিশু ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। তবে ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হওয়ায় অভিযোগ গঠনের জন্য ১ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়।

ঈদের ছুটি শেষে ১ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পরদিন ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। রামিসার বাবা-মা, বোন ও স্বজনসহ মোট ১৮ জন সাক্ষ্য দেন। এরপর ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ধারাবাহিক বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আজ বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।