বড়বাড়ি সীমান্তে তৃতীয় দিন খোলা আকাশের নিচে ১০ নারী-শিশু, পুশইন ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তের শূন্যরেখায় টানা তৃতীয় দিনের মতো খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন তিন শিশু ও দুই নারীসহ মোট ১০ জন। পুশইনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় তৈরি হয়েছে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি, আর মানবিক সংকটও ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

রোববার দুপুরে বড়বাড়ি সীমান্ত (Barobari Border) এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রখর রোদ উপেক্ষা করে শূন্যরেখায় বসে আছেন তারা। খাবার, পানি ও ন্যূনতম আশ্রয় ছাড়াই দিন-রাত পার করছেন বলে জানিয়েছেন সেখানে অবস্থানকারীরা।

বিজিবি (Border Guard Bangladesh) ও সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোররাতে বিএসএফ (Border Security Force) পঞ্চগড় সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় থাকা ওই ১০ জনকে বাংলাদেশের দিকে পুশইনের চেষ্টা করে। এরপর পরিস্থিতি নিরসনে দুই বাহিনীর মধ্যে কয়েক দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।

রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ভারতীয় শূন্যরেখায় অবস্থানরত ওই ব্যক্তিদের আবারও বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে বিজিবি বাধা দেয়। এ সময় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয় বলে জানা গেছে।

পুশইনের শিকার আব্দুস সালাম (Abdus Salam) গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, খাবার ও পানির সংকট এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ভাষায়, “আমাদের খাবার ও পানি শেষ হয়ে গেছে। না খেয়ে বেঁচে আছি। কেউ আমাদের খাবার ও পানি দিচ্ছে না।”

ঘটনাটি ঘিরে সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের দাবি উঠছে স্থানীয়দের মধ্যেও।