যশোরের ধর্মতলা এলাকায় আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগের ব্যানারে আকস্মিক ঝটিকা মিছিল বের হওয়ার ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মিছিলের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জড়িত সন্দেহে অন্তত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) বিকেলে ধর্মতলা (Dharmatala) মোড় সংলগ্ন প্রধান সড়কে হঠাৎ করেই ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল যুবলীগের ব্যানার নিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান দিতে দিতে মিছিল শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলকারীদের বহন করা ব্যানারে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল— ‘সার্বিক ব্যবস্থাপনায় হাজী আলমগীর কবীর সুমন’।
মিছিলটি কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর টহলরত পুলিশ সদস্যরা সেখানে পৌঁছে ধাওয়া দিলে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার ফেলে দ্রুত চারদিকে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ঘটনার পরপরই এলাকায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (Detective Branch Police), কোতোয়ালি থানা (Kotwali Police Station) পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা উপস্থিত হন। পুরো এলাকা ঘিরে বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালানো হয় এবং ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে ১০ জনকে আটক করা হয়।
আটকদের প্রথমে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে জেলা ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তাদের কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মিরাজুল ইসলাম (Mirajul Islam), যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), গণমাধ্যমকে বলেন, যুবলীগের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের একাধিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ১০ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগেও যশোর (Jashore) শহরের বাবলাতলা, গরীবশাহ মাজার এলাকা এবং পোস্ট অফিসপাড়ায় যুবলীগের ব্যানারে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে একাধিক ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল ও ঘোলাটে করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ মহলের প্ররোচনায় এ ধরনের আকস্মিক কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে।
জেলা পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, শহরের শান্তিশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে সংগঠনটির বহু নেতাকর্মীকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধে পুরো যশোর শহরজুড়ে বিশেষ নজরদারি এবং গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।


