সোনিয়া-মমতা বৈঠক ঘিরে জোর আলোচনা, কংগ্রেস-তৃণমূল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন জল্পনা

নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর ধারাবাহিক বৈঠক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi)-র সঙ্গে তার একান্ত সাক্ষাতের পর প্রশ্ন উঠেছে, ভবিষ্যতে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) ও কংগ্রেসের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে কি না।

১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে তার সম্পর্ক কখনও সহযোগিতার, আবার কখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতার রূপ নিয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই পক্ষের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, বিরোধী জোট ইন্ডিয়া (INDIA Alliance)-র বৈঠকে অংশ নিতে বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। অতীতে এ ধরনের বৈঠকে মমতার সরাসরি উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেলেও এবার তিনি নিজেই অংশ নিয়েছেন।

মঙ্গলবার সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বুধবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)-র সঙ্গে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একই দিনে সোনিয়া গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও একটি বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, জাতীয় পর্যায়ে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী শক্তিকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর করার প্রশ্নে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে সহযোগিতা বাড়তে পারে। তবে সেই সম্পর্ক দলীয় একীভূতকরণ পর্যন্ত গড়াবে কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে তৃণমূলের কয়েকজন নেতা এমন সম্ভাবনাকে সরাসরি নাকচ করেছেন। তাদের বক্তব্য, দলের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থান বজায় রাখার পক্ষেই অধিকাংশ নেতা-কর্মী রয়েছেন।

নয়াদিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ধরনের আলোচনা চললেও কংগ্রেস কিংবা তৃণমূল—কোনো দলই সম্ভাব্য সমঝোতা বা সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। ফলে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠক শেষ পর্যন্ত ভারতীয় রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে