হেক্সার স্বপ্নে ব্রাজিল: ২০২৬ বিশ্বকাপে কোন পথে ফাইনালে পৌঁছাতে পারে সেলেসাওরা?

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল (Brazil) আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে নামছে বহু প্রতীক্ষিত ‘হেক্সা’ জয়ের লক্ষ্যে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপে ২৪ বছরের শিরোপা-খরা কাটানোর নতুন স্বপ্ন দেখছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে একটি কৌতূহলও বারবার ফিরে আসছে। সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে যখন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল, তখনই ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শিরোপা জিতেছিল ব্রাজিল। তিন দশকের বেশি সময় পর আবারও বিশ্বকাপ ফিরছে উত্তর আমেরিকায়। তাহলে কি ইতিহাস নতুন করে লেখা হবে?

২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল খেলবে গ্রুপ ‘সি’-তে। তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো (Morocco), হাইতি এবং স্কটল্যান্ড। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের শহরগুলোতে, যা ভ্রমণ ও প্রস্তুতির দিক থেকে দলটির জন্য কিছুটা সুবিধাজনক বলে বিবেচিত হচ্ছে।

গ্রুপপর্বে ব্রাজিলের সূচনা হবে মরক্কোর বিপক্ষে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১৪ জুন ২০২৬, নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় শুরু হবে লড়াই।

দ্বিতীয় ম্যাচে ২০ জুন ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে হাইতির মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে।

গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ২৫ জুন মায়ামি স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল। ম্যাচটির সময়ও বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা।

এবারের বিশ্বকাপে ৪৮টি দল ১২টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে খেলবে। প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ সরাসরি দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নেবে। এছাড়া ১২ গ্রুপের সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও নকআউট পর্বে খেলবে।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে ব্রাজিলের সম্ভাব্য পথ

গ্রুপ ‘সি’-এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ষোলোয় উঠলে ব্রাজিল খেলবে টুর্নামেন্টের ৭৬তম ম্যাচে। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্স-আপ দল। ওই গ্রুপে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইডেন ও তিউনিসিয়া। নেদারল্যান্ডস গ্রুপসেরা হলে জাপান কিংবা সুইডেনের বিপক্ষে খেলতে পারে ব্রাজিল।

ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ৩০ জুন, টেক্সাসের হিউস্টন স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় শুরু হবে খেলা।

পরবর্তী ধাপে, অর্থাৎ দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ ৯১-এ ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে গ্রুপ ‘ই’ অথবা গ্রুপ ‘আই’-এর রানার্স-আপদের মধ্যকার জয়ী দল। সেখানে জার্মানি, সেনেগাল কিংবা স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই ম্যাচ হবে ৬ জুলাই নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হবে।

কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছাতে পারলে ব্রাজিলের সামনে আসতে পারে ইংল্যান্ড (England) অথবা স্বাগতিক মেক্সিকো। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১২ জুলাই, মায়ামি স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।

সেমিফাইনালে সম্ভাব্য চিত্র আরও আকর্ষণীয়। ব্র্যাকেটের সমীকরণ অনুযায়ী, সেখানে ফুটবল বিশ্ব দেখতে পারে বহু প্রতীক্ষিত সুপার-ক্লাসিকো। যদি আর্জেন্টিনা (Argentina) অথবা পর্তুগাল নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান ধরে রেখে নকআউট বাধা অতিক্রম করে আসে, তাহলে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হতে পারে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।

সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৬ জুলাই, আটলান্টা স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।

ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২০ জুলাই নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়। সেখানে প্রতিপক্ষ হবে বিপরীত ব্র্যাকেট থেকে উঠে আসা দল।

যদি গ্রুপ রানার্স-আপ হয়

গ্রুপ ‘সি’-তে দ্বিতীয় স্থান নিয়ে নকআউট পর্বে উঠলে ব্রাজিলের পুরো রোডম্যাপ বদলে যাবে। সেক্ষেত্রে তারা ব্র্যাকেটের বিপরীত অংশে চলে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চল ছেড়ে মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলের ভেন্যুগুলোতে বেশি ম্যাচ খেলতে হবে।

দ্বিতীয় রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে গ্রুপ ‘এফ’-এর চ্যাম্পিয়ন, সম্ভাব্যভাবে নেদারল্যান্ডস। ম্যাচটি হবে ১ জুলাই মেক্সিকোর গুয়াদালুপের এস্তাদিও বিবিভিএ স্টেডিয়ামে।

রাউন্ড অব ১৬-তে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ মরক্কো, দক্ষিণ কোরিয়া অথবা বিশেষ পরিস্থিতিতে নেদারল্যান্ডসও হতে পারে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ৪ জুলাই হিউস্টনে।

কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের সামনে আসতে পারে ফ্রান্স কিংবা জার্মানি। এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১০ জুলাই ফক্সবরো স্টেডিয়ামে।

সেমিফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। ম্যাচটি হবে ১৫ জুলাই আরলিংটন স্টেডিয়ামে।

তৃতীয় স্থান নিয়ে নকআউটে উঠলে

ব্রাজিল যদি গ্রুপে তৃতীয় হয়ে সেরা আটটি তৃতীয় দলের একটি হিসেবে পরবর্তী পর্বে যায়, তাহলে তাদের গতিপথ নির্ধারণ করা সবচেয়ে কঠিন হবে। কারণ তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর অবস্থান বিভিন্ন ব্র্যাকেটে পড়তে পারে।

সবচেয়ে সম্ভাব্য সমীকরণ অনুযায়ী, দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হতে পারে মেক্সিকো বা নেদারল্যান্ডস। ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে পারে ডালাস অথবা লস অ্যাঞ্জেলেসে।

রাউন্ড অব ১৬-তে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম কিংবা স্পেন। ম্যাচের ভেন্যু হতে পারে ভ্যানকুভার বা সিয়াটল।

কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা অথবা ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড কিংবা পর্তুগালের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করতে পারে।

তবে এসব হিসাব-নিকাশ এখনো কাগজে-কলমে। মাঠের লড়াই শুরু হলে প্রতিটি ম্যাচই বদলে দিতে পারে সমীকরণ। তবুও একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—১৯৯৪ সালের মতো কি আবারও উত্তর আমেরিকার মাটিতে শিরোপা-খরা কাটাবে ব্রাজিল? নাকি হেক্সার স্বপ্নকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে?

সূত্র: বিবিসি বাংলা