৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান, বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্ট পেল কানাডা

অবশেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে পয়েন্টের স্বাদ পেল কানাডা (Canada)। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঘরের মাঠে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ইতিহাস গড়েছে স্বাগতিকরা। শুক্রবার (১২ জুন) টরন্টোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা (Bosnia and Herzegovina)-র সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট অর্জন করেছে কানাডা।

এর আগে ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে মোট ছয়টি ম্যাচ খেলেছিল কানাডা। তবে প্রতিটি ম্যাচেই পরাজয় সঙ্গী হয়েছিল তাদের। ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই দীর্ঘদিন কাটাতে হয়েছে উত্তর আমেরিকার দেশটিকে। এবার সেই আক্ষেপ ঘুচল নিজেদের সমর্থকদের সামনে।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। বল দখলে কিছুটা এগিয়ে ছিল কানাডা, তবে প্রথম আঘাত হানে বসনিয়া। ম্যাচের ২১তম মিনিটে স্বাগতিক সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেন বসনিয়ার ফরোয়ার্ড জোভো লুকিচ (Jovo Lukic)। কর্নার থেকে ভেসে আসা বল দারুণ এক হেডে জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে কানাডা। একের পর এক আক্রমণ গড়ে তুললেও প্রথমার্ধে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি তারা। ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় স্বাগতিকদের।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ায় কানাডা। প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে একাধিক সুযোগও তৈরি করে তারা। অবশেষে সেই প্রচেষ্টার ফল আসে ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে। দলের সবচেয়ে ভরসার ফরোয়ার্ড কাইল লারিন (Cyle Larin) গোল করে কানাডাকে সমতায় ফেরান এবং গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেন।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দুই দলই জয়সূচক গোলের খোঁজে চেষ্টা চালালেও আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।

ড্র হলেও এই ফল কানাডার জন্য ঐতিহাসিক। বিশ্বকাপের দীর্ঘ হতাশার অধ্যায় পেছনে ফেলে অবশেষে পয়েন্টের খাতা খুলেছে তারা। ঘরের মাঠে অর্জিত এই এক পয়েন্ট ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোতে দলটিকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলেই মনে করছেন সমর্থকরা।