তারুণ্য ধরে রাখতে পাতে কী রাখবেন, আর কোন খাবারগুলো আজই বাদ দেবেন?

বয়স বাড়া জীবনের স্বাভাবিক এবং অনিবার্য বাস্তবতা। তবু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের তারুণ্য, ত্বকের উজ্জ্বলতা ও সতেজতা ধরে রাখতে চান প্রায় সবাই। অনেকেই বয়সের ছাপ কমাতে দামি ক্রিম, লোশন বা সেরামের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর ভেতর থেকে পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে শুধু বাহ্যিক পরিচর্যায় দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব নয়।

প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস আমাদের ত্বকের নমনীয়তা, কোলাজেন উৎপাদন এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ দ্রুত বার্ধক্যের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিছু খাবার এই ক্ষয় কমিয়ে তারুণ্য দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে, আবার কিছু খাবার উল্টো বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

দীর্ঘ সময় তরুণ থাকতে চাইলে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন কয়েকটি পুষ্টিকর খাবার।

ব্রকলি (Broccoli) পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি সবজি। এতে থাকা ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা ত্বককে টানটান রাখতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি ভিটামিন কে, ক্যালসিয়াম ও লুটেন শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সহায়ক।

লাল ক্যাপসিকাম (Red Bell Pepper) অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এতে থাকা ক্যারোটিনয়েড ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

পালংশাক (Spinach) শরীরকে সজীব ও আর্দ্র রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন এ, সি, ই, কে এবং আয়রনে সমৃদ্ধ এই শাক কোষের ক্ষয় কমায় এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।

মিষ্টিআলু (Sweet Potato)-তে থাকা বিটাক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। এটি ত্বকের নমনীয়তা বজায় রাখতে এবং নতুন কোষ তৈরিতে সহায়তা করে।

অ্যাভোকাডো (Avocado) স্বাস্থ্যকর চর্বির একটি চমৎকার উৎস। এতে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়তেও ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে।

পেঁপে (Papaya) হজমশক্তি বাড়াতে কার্যকর। এতে থাকা প্যাপেইন এনজাইম খাদ্য হজমে সাহায্য করে। পাশাপাশি বয়সজনিত কিছু শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি কমাতেও এর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণা রয়েছে।

এ ছাড়া কাঠবাদাম ও আখরোটে থাকা ভিটামিন ই এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ও কোষের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। খোসাসহ বাদাম খেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পূর্ণ উপকার পাওয়া যায়।

ডালিমের দানায় থাকা পুনিক্যালাজিন ও ইউরোলিথিন এ শরীরের মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যকারিতা সমর্থন করে। ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে পেশির ক্ষয় ধীর করতে এটি সহায়ক হতে পারে।

অন্যদিকে কিছু খাবার রয়েছে, যা দ্রুত বার্ধক্য ডেকে আনে।

অতিরিক্ত চিনি শরীরে গ্লাইকেশন প্রক্রিয়া বাড়িয়ে কোলাজেন ও ইলাস্টিনের ক্ষতি করে। এর ফলে ত্বক দ্রুত ঝুলে যেতে পারে এবং বয়সের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত ঝাল খাবার শরীরে ফ্রি র্যাডিক্যালের পরিমাণ বাড়াতে পারে। এগুলো কোষের ক্ষতি করে এবং ত্বকে দ্রুত বলিরেখা সৃষ্টি করতে ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত ঝাল খাবার মুখে লালচে বা বেগুনি দাগের কারণও হতে পারে।

ডালডা ও ট্রান্সফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি কোলাজেন উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করে।

প্রক্রিয়াজাত মাংসে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়াম ও সালফাইট শরীরকে পানিশূন্য করে তুলতে পারে। আবার উচ্চ তাপমাত্রায় পোড়া বা গ্রিল করা মাংস ধমনির ক্ষতি এবং বয়সজনিত নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংকস, অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও অ্যালকোহলও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো কোষের বয়স দ্রুত বাড়ায়, ত্বক শুষ্ক করে এবং নতুন কোষ তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

তারুণ্য ধরে রাখার অর্থ প্রিয় সব খাবার একেবারে ত্যাগ করা নয়। বরং প্রয়োজন একটি সুষম ও বৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাস। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি এবং ভাজাপোড়া কমিয়ে প্রতিদিনের খাবারে বেশি করে রঙিন ফল ও সবজি যোগ করলে ত্বক ও শরীর দীর্ঘদিন সতেজ, প্রাণবন্ত ও সুস্থ থাকতে পারে।