আগস্টের শেষেই জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের প্রথম বিদ্যুৎ, মিলতে পারে ৩০০ মেগাওয়াট সরবরাহ

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (Rooppur Nuclear Power Plant-RNPP) চলতি বছরের আগস্টের শেষ নাগাদ প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছেন ফকির মাহবুব আনাম (Fakir Mahbub Anam)।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল (Md. Mostafizur Rahman Babul)-এর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে কমিশনিং ও স্টার্টআপ পর্যায়ে রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ধাপ। ইউনিট-১-এর ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম গত ২৮ এপ্রিল শুরু হয়েছে। বর্তমানে রিঅ্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপন, বোরিক অ্যাসিড সংযোজন, নিরাপত্তা যাচাই, সাব-ক্রিটিক্যালিটি পরীক্ষা এবং অন্যান্য কমিশনিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, পরবর্তী ধাপে রিঅ্যাক্টরকে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বিত পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে এবং নিম্নক্ষমতায় রিঅ্যাক্টর পরিচালনার মাধ্যমে স্টার্টআপ কার্যক্রম শেষ করা হবে।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রথমে ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং পরে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ক্ষমতায় রিঅ্যাক্টর পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হবে। সব পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে জ্বালানি লোডিং শুরুর প্রায় ১১৪ দিন পর জেনারেটর জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের আগস্টের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

রাশিয়ার সহযোগিতায় ঈশ্বরদী (Ishwardi)-তে নির্মিত ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে দেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকার আশা করছে, কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস বহুমুখীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।