চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে একটি আবাসিক হোটলের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর এক প্রবীণ সাংবাদিককে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে হাজীগঞ্জ বাজার এলাকায় সংঘটিত এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট হোটেলটি সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
আক্রান্ত সাংবাদিক মো. মহিউদ্দিন আল আজাদ (Md. Mohiuddin Al Azad) হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি। তিনি জাতীয় দৈনিক ‘বাংলাদেশের খবর’ ও ‘বাংলাদেশ নিউজ’-এর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় সাপ্তাহিক ‘ত্রিনদী’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকও তিনি।
হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হাজীগঞ্জ বাজারের ‘মাতৃমায়া’ এবং ‘আনোয়ার মঞ্জিল’ নামে দুটি আবাসিক হোটলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল। গত শনিবার একটি হোটেল থেকে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোটেলটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
তবে প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে হোটেলটি চালু রাখা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারী ও এক পুরুষকে আটক করে। এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন হোটেল মালিক ফারুক হোসেন লিটন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে ফারুক হোসেন লিটনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে। সেখান থেকে সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদকে টেনেহিঁচড়ে বের করে এনে তার মালিকানাধীন ভবনের নিচে নিয়ে মারধর করা হয়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানা (Hajiganj Police Station)-এর অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল মান্নান (Md. Abdul Mannan)-এর নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাংবাদিককে উদ্ধার করে।
এ সময় অভিযুক্ত হোটেল মালিক ফারুক হোসেন লিটন এবং তার ছেলে তাওহীদ হোসেনকে আটক করা হয়। পরে সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদ বাদী হয়ে হোটেল মালিক, তার বাবা, ছেলে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর প্রশাসনও কঠোর অবস্থান নেয়। মঙ্গলবার বিকেলে হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন (Hajiganj Upazila Administration) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে হোটেল পরিচালনা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থলেই ‘মাতৃমায়া’ আবাসিক হোটেলটি সিলগালা করার নির্দেশ দেন।
অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহান, পুলিশ সদস্য এবং হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে চাঁদপুর (Chandpur) জেলার হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল মান্নান জানান, মামলার দুই আসামিকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে হামলায় জড়িত অন্যদের শনাক্তের কাজ চলছে এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।


