সংসদে ‘শহীদের সন্তান’ দাবি করে বিতর্কে জামায়াত এমপি, ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ

জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ হিসেবে উপস্থাপন করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন আব্দুল মুনতাকিম (Abdul Muntakim), যিনি জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami)-এর সংসদ সদস্য এবং নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের প্রতিনিধি।

নির্বাচনী হলফনামায় থাকা তথ্য অনুযায়ী, তার জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। অর্থাৎ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রায় এক দশক পরে তার জন্ম হয়েছে। একই সঙ্গে হলফনামা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম বর্তমানে জীবিত রয়েছেন।

গত রোববার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আব্দুল মুনতাকিম তার পরিবারের মুক্তিযুদ্ধ-সম্পৃক্ত ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শ’\হীদ। আমার আব্বারা ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।”

তবে তার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, ১৯৮১ সালে জন্ম নেওয়া একজন ব্যক্তি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধে শ’\হীদের সন্তান হতে পারেন, যখন তার বাবা-মা দুজনেই বর্তমানে জীবিত আছেন।

হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তার বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন। এ তথ্য সামনে আসার পর বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে আব্দুল মুনতাকিমের বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম এখনো জীবিত আছেন। তারা সৈয়দপুর (Saidpur) উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে ছেলের সঙ্গেই বসবাস করছেন। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি সৈয়দপুর আল ফারুক একাডেমিতে শিক্ষকতা করতেন বলেও জানা গেছে।

বিতর্কের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আব্দুল মুনতাকিম নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ভুল তথ্য ও শব্দ উচ্চারিত হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”

তিনি আরও জানান, জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে।

এদিকে তার সহকর্মী এবং সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াত (Saidpur Upazila Jamaat)-এর নায়েবে আমির মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনাটিকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা মুখ ফসকে হওয়া ভুল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচনী এলাকায় ফিরে সংবাদকর্মীদের সামনে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন।

উল্লেখ্য, আব্দুল মুনতাকিম ছোটবেলায় হাফেজ হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায়ও উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভায় দাঁড়িয়ে নিজের পরিবার সম্পর্কিত এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায় তার দায়িত্বশীলতা এবং বক্তব্যের নির্ভুলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন মহলের মানুষ।