সপ্তম বিশ্বকাপের দরজা নিজেই বন্ধ করলেন মেসি, ‘না’ বলেই থামালেন সব জল্পনা

ফুটবল ইতিহাসে অসংখ্য রেকর্ডের মালিক লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিনি যোগ করেছেন আরও একটি অনন্য অধ্যায়। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপ খেলার কীর্তি গড়েছেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা। একদিন পর সেই রেকর্ডে ভাগ বসান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (Cristiano Ronaldo)। তবে রেকর্ড ভাগাভাগির পরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসিই। আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করে আবারও শিরোনাম দখল করেন তিনি।

আর মাত্র চার দিন পর ৩৯ বছরে পা দেবেন মেসি। অন্যদিকে রোনালদো ইতোমধ্যে ৪১ বছর অতিক্রম করেছেন। বয়সের এই বাস্তবতা থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে—দুই কিংবদন্তিকে কি ২০৩০ বিশ্বকাপেও দেখা যাবে?

বিশেষ করে পর্তুগাল (Portugal)-এ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে রোনালদোর অংশগ্রহণ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও মেসি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ওলে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সম্ভাবনাটিকে একেবারেই নাকচ করে দেন।

সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেসির সংক্ষিপ্ত কিন্তু দৃঢ় উত্তর ছিল, ‘না। এটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।’

দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেকে ধরে রাখার রহস্য সম্পর্কেও কথা বলেছেন তিনি। মেসির মতে, তার সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ফুটবলের প্রতি অবিচল নিবেদন এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা।

তার ভাষায়, ‘আমি সবসময় ফুটবলের মধ্যেই বেঁচে থেকেছি। প্রতিযোগিতা করেছি, নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শারীরিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত রেখেছি, যাতে বিশ্বকাপে দলকে সর্বোচ্চ সাহায্য করতে পারি। আমাদের দলে অসাধারণ কিছু খেলোয়াড় আছে। এখানে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জায়গাও সহজে ছেড়ে দেয় না। টিকে থাকতে হলে নিজের সেরা ফর্মে থাকতে হয়। এটাই আমাদের শক্তি এবং সাফল্যের মূল কারণ।’

২০৩০ বিশ্বকাপও হতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ব্যতিক্রমী আয়োজন। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে এবার প্রথমবারের মতো দুটি মহাদেশের ছয়টি দেশ এই আসরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। মূল আয়োজক হিসেবে থাকছে স্পেন (Spain), পর্তুগাল ও মরক্কো (Morocco)। অন্যদিকে শতবর্ষের বিশেষ আয়োজনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আর্জেন্টিনা (Argentina), উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে।

তবে এতসব পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার মাঝেও মেসি খুব বেশি দূরের কথা ভাবতে রাজি নন। ক্লাব ফুটবল, জাতীয় দল এবং ব্যক্তিগত অর্জনের প্রায় সব শিখরই তিনি স্পর্শ করেছেন। ফলে এখন তার কাছে প্রতিটি নতুন সাফল্য যেন অতিরিক্ত উপহার।

মেসি বলেন, ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, ক্লাব, জাতীয় দল ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সব গুরুত্বপূর্ণ অর্জন করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তাই এখন থেকে যা কিছু আসবে, সবই আমার কাছে বোনাস।’

গোল করছেন, জিতছেন, আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন সমর্থকদের সঙ্গে। কখনও আবেগে চোখ ভিজছে, কখনও নতুন ইতিহাস লিখছেন নিজের নামের পাশে। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর অনেকের কাছে তার প্রাপ্তির খাতা পূর্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু মেসি এখনো থামেননি। মাঠে আছেন, লড়াই করছেন এবং প্রতিনিয়ত নতুন গল্প লিখে চলেছেন। আর সেই কারণেই বিশ্ব ফুটবলের দৃষ্টি এখনো নিবদ্ধ তার দিকেই।