যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দাবি করেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)-র সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনো দৃঢ় ও ইতিবাচক। তবে সেই সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি নেতানিয়াহুকে ‘মানসিকভাবে সুস্থ’ রাখতে মাঝে মাঝে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন হয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১৯ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios)-এর সাংবাদিক মার্ক কাপুটোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক ভালো এবং মজবুত। কিন্তু তাকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখার জন্য মাঝেমধ্যে আমাদের কঠিন হতে হয়।’
সম্প্রতি লেবানন (Lebanon)-এ ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে দুই নেতার মধ্যে টানাপোড়েনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ নিয়ে একাধিকবার অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে তার সেই আহ্বানে নেতানিয়াহু সাড়া দিচ্ছেন না বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছে যে কয়েকদিন আগে এই ইস্যুতে নেতানিয়াহুকে কড়া ভাষায় সতর্কও করেছিলেন ট্রাম্প। যদিও সেই সতর্কতার পরও লেবাননে সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে সম্প্রতি ইরান (Iran)-এর সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য, এই সমঝোতাকে ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপ দেওয়া। তবে তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, স্থায়ী শান্তির পথে এগোতে হলে ইসরায়েলকে অবশ্যই লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও লেবাননে চলমান সংঘাতের অবসান চান। কিন্তু নেতানিয়াহুর অনাগ্রহ এবং পর্যাপ্ত সহযোগিতার অভাবে সেই লক্ষ্য এখনো অর্জন করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলকে লেবাননে হামলা বন্ধ করতে রাজি করানো সম্ভব হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসী সুরে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি পারব। নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের সরকারি কর্মকর্তারা আমাকে সম্মান করেন। আমি কোনো নির্দেশ দিলে তারা সেটা মেনে চলবে।’
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, লেবাননে চলমান সামরিক তৎপরতা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ফলে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


