প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman) সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে রওনা হয়েছেন। মালয়েশিয়া (Malaysia) সরকারের আমন্ত্রণে রোববার (২১ জুন) বিকাল পৌনে ৩টায় তিনি দেশটির উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং দলের শীর্ষ নেতারা। মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি সরাসরি চীন (China) সফরে যাবেন। এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং (Li Qiang)-এর আমন্ত্রণে।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই দুই সফরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীন সফরের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ। আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। এর পরদিন, ২৬ জুন, তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং (Xi Jinping)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এছাড়া ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলন বা সামার দাভোস ফোরামে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধি বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নধারা নিয়ে মতবিনিময় করবেন।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে এই সফরে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রোটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা তিস্তা প্রকল্প নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
চীন সফরে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংযোগ এবং উন্নয়ন খাতে অংশীদারিত্ব গভীর করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অন্যদিকে মালয়েশিয়া সফরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে।
নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে আগামী ২৬ জুন রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
