বেফাঁস কথার প্রতিযোগিতায় সংসদের মূল্যবান সময় ক্ষয়, প্রশ্নে এমপিদের প্রস্তুতি ও সংযম

দেশ পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad)। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সেখানে আইন প্রণয়ন, বিদ্যমান আইন সংশোধন এবং রাষ্ট্র ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন। বিপুল অর্থ ব্যয়ে পরিচালিত প্রতিটি অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের সময় নির্ধারণ করে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাদের কার্যপ্রণালি বিধিসহ সংসদের নানা রীতি, নিয়ম ও শালীনতা মেনে চলার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। এরপরও বিভিন্ন সময় অনেক সংসদ সদস্যকে চরম বেফাঁস, অপ্রাসঙ্গিক ও অপ্রয়োজনীয় বক্তব্য দিতে শোনা গেছে।

আগের বিভিন্ন সংসদের ধারাবাহিকতায় চলতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে সরকারি ও বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যের মধ্যে বেফাঁস কথা বলার যেন এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। একের পর এক অপ্রাসঙ্গিক ও বিতর্কিত বক্তব্যে শুধু সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত মর্যাদাই প্রশ্নের মুখে পড়ছে না, ক্ষুণ্ন হচ্ছে সংসদের ভাবমূর্তিও। একই সঙ্গে নষ্ট হচ্ছে অধিবেশনের মূল্যবান সময়। অথচ নির্ধারিত সময়ের স্বল্পতার কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ বহু বিষয়ে প্রয়োজনীয় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না অনেক সংসদ সদস্য।

কেউ কেউ মনে করছেন, এবার বিপুলসংখ্যক নতুন সদস্য একটি নতুন ও ব্যতিক্রমী সংসদে খোলামেলাভাবে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। মন খুলে কথা বলতে গিয়েই তাদের কারও কারও মুখ থেকে বেফাঁস বক্তব্য বেরিয়ে আসছে। তবে একই সঙ্গে তারা দাবি করছেন, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবারের সংসদ অনেক বেশি প্রাণবন্ত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন এবং সংসদ সদস্য ও সংসদের মান-মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে বিতর্কিত ও অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য এড়িয়ে চলা জরুরি। কার্যপ্রণালি বিধি অনুসরণ, প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং পর্যাপ্ত পড়াশোনা ও প্রস্তুতি নিয়ে অধিবেশনে আসার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

নতুন সংসদ ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা

সূত্রমতে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৬ বছরের শাসনামলে জাতীয় সংসদকে চরম বিতর্কের মুখে ফেলা হয়েছিল। ওই সময়ে সংসদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা অনেকটাই কমে যায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে ঘিরে তাই মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়। নানা কারণেই ব্যতিক্রমধর্মী এই সংসদের যাত্রাও বেশ সফলভাবে শুরু হয়েছিল।

গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman) তার ভাষণে বলেছিলেন, জাতীয় সংসদকে তিনি সব ধরনের যুক্তিতর্ক এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান।

অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman) আশা প্রকাশ করেছিলেন, নবগঠিত সংসদ একটি গতিশীল, প্রাণবন্ত ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। এই সংসদ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের কল্যাণে কাজ করবে বলেও প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেছিলেন, সংসদীয় আলোচনায় ব্যক্তিগত আ’\ক্রমণ কিংবা চরিত্র হ’\ননের বদলে জনগণের কল্যাণসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বক্তব্য ও রাজনৈতিক ইস্যুতে সংসদ নেতা এবং বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে সংসদকে প্রাণবন্ত রাখার চেষ্টা দেখা যায়। বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারি ও বিরোধী দলের সরব ভূমিকায় সংসদে বেশ উত্তাপ ছড়ায়। সেই উত্তাপের মধ্য দিয়েই ৩০ এপ্রিল শেষ হয় প্রথম অধিবেশন।

তবে ৭ এপ্রিল শুরু হওয়া দ্বিতীয় অধিবেশন বা বাজেট অধিবেশনে এসে সেই উত্তাপের গতিপথ অনেকটাই ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। বাজেটের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে কেউ কেউ অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে নির্ধারিত সময় ব্যয় করছেন। আপত্তিকর বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ বা এক্সপাঞ্জ করতে হচ্ছে স্পিকারকে।

এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্পিকারের নিজের বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ছে। অথচ সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় প্রতি মিনিটে দুই লাখ ৭২ হাজার টাকা ব্যয় হয় বলে জানা গেছে।

‘নিম্নমানের কথা সংসদের মর্যাদাহানিকর’

সংসদ অধিবেশনে সদস্যদের বেফাঁস বক্তব্য প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান এবং সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার (Badiul Alam Majumdar) বলেন, জাতীয় সংসদে সদস্যরা যে ধরনের নিম্নমানের কথাবার্তা বলছেন, তা সংসদের জন্য মর্যাদাহানিকর। কোনোভাবেই এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

তার ভাষ্য, জাতীয় সংসদ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রস্থল। সেখানে নির্বাচিত হয়ে আসা ব্যক্তিরা যদি দায়িত্ব ও পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ না করেন, তাহলে তারা নিজেদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সংসদকেও মানুষের কাছে নেতিবাচক ধারণার মধ্যে ফেলবেন।

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন। সংসদ সদস্যদের তাদের পদের গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে আচরণ করতে হবে। সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় কার্যপ্রণালি বিধি মেনে চলা এবং প্রয়োজনীয় পড়াশোনা করে আসার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই সংসদীয় কর্মকাণ্ডে আগ্রহী নন। তারা স্থানীয় উন্নয়নকাজের দিকে বেশি আগ্রহ দেখান, যা সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তার মতে, সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব আলাদা। ভবিষ্যতে নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার সময় রাজনৈতিক দলগুলোর বিবেচনা করা উচিত, প্রার্থীরা আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী কাজে আগ্রহী কি না। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর বড় দায়িত্ব রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হলে দক্ষ এবং সংসদীয় কাজে আগ্রহী ব্যক্তিরাই মনোনয়নের সুযোগ পাবেন।

মামুনুল হককে ঘিরে বক্তব্য এক্সপাঞ্জ

সূত্রমতে, গত ১৮ জুন বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা-১ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক অপ্রাসঙ্গিকভাবে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের (Maulana Mamunul Haque) একটি রিসোর্টে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি মামুনুল হকের ‘মুতা বিয়ে’ সম্পর্কে জানতে চান।

সংসদের বাইরের একজন ব্যক্তিকে নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ইশারা করলে আবু আশফাক প্রসঙ্গ পরিবর্তন করেন। এরপরও বিষয়টি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়। তাদের অনুরোধের পর বক্তব্যটি কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

এ সময় আবু আশফাককে স্পিকার বলেন, বক্তব্যে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় না আনাই ভালো। তবে স্পিকার নিজে মুতা বিয়ে সম্পর্কে যে বর্ণনা দেন, তা ঘিরেও নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের স্পিকারকে উদ্দেশ করে বলেন, মামুনুল হকের বিষয়ে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা পুরোপুরি ভুল। তিনি মুতা বিয়ে করেননি; তিনি বিয়ে করেছিলেন এবং বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত। বিয়ে করা জায়েজ উল্লেখ করে বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানান তিনি।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলামও একইভাবে বক্তব্যটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ করেন।

এরপর স্পিকার বলেন, মাওলানা মামুনুল হকের বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মামুনুল হক এখনো তার অবস্থান পরিষ্কার করেননি এবং একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের ‘অন্ধকার অংশ’ সংসদে আলোচিত হোক, তা তিনি চান না।

এদিকে সংসদে মামুনুল হককে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় তার দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। বক্তব্যটির প্রতিবাদে দলটি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বি’\ক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশও করে।

নিজের মন্তব্যও এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

মামুনুল হকের ‘কথিত পরকীয়া’ নিয়ে সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য আবু আশফাকের দেওয়া বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmad)। একই সঙ্গে একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের ‘অন্ধকার অংশ’ নিয়ে নিজের মন্তব্যও এক্সপাঞ্জ করার কথা জানান তিনি।

রোববার জাতীয় সংসদে স্পিকার বলেন, যার পক্ষে সংসদে উপস্থিত হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেই, তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা অনুচিত। সে কারণেই আবু আশফাকের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিজের বক্তব্যে তিনি কোনো ব্যক্তির জীবনের ‘অন্ধকার অধ্যায়’ কথাটি উল্লেখ করেছিলেন। সেই ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন অধ্যায়’ সম্পর্কিত মন্তব্যও কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে বাজেট আলোচনা এবং অন্যান্য বক্তৃতায় সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান স্পিকার। তিনি বলেন, যিনি সংসদে এসে নিজেকে রক্ষা বা বক্তব্যের জবাব দিতে পারবেন না, তাকে উদ্দেশ করে যেন কোনো বিরূপ মন্তব্য করা না হয়।

জীবিত বাবাকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বলায় বিতর্ক

বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিজের জীবিত বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হিসেবে উল্লেখ করেন নীলফামারী-৪, সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। বক্তব্যটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হওয়ার পর তিনি ভুল স্বীকার করেন। বক্তব্য সংশোধনের জন্য স্পিকারের কাছে চিঠিও দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

গত ১৪ জুন সংসদে দেওয়া বক্তব্যে আব্দুল মুনতাকিম দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমার বাবা, আমার দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা—বাবা ও চাচা—সাত ভাই, চারজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। আমি জুলাই যোদ্ধা।”

বক্তব্যটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হলে সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি সংসদ সদস্যের ‘স্লিপ অব টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত মুখ ফসকে বলা কথা। বিষয়টিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বানও জানানো হয়।

‘ঋণখেলাপির সংসদ’ বক্তব্য নিয়ে তর্ক

গত ১৮ জুন প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বর্তমান সংসদকে ‘ঋণখেলাপির সংসদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার এই বক্তব্য ঘিরে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বেশ বিতর্ক হয়।

সরকারি দলের সদস্য ফজলুল হক মিলন দাবি করেন, সংসদে কোনো ঋণখেলাপি নেই। তাই ‘ঋণখেলাপি’ শব্দটি কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান তিনি।

ডেপুটি স্পিকার তখন বলেন, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বলেন, সংসদে কেউ ঋণখেলাপি নন, তবে কেউ ঋণগ্রস্ত হতে পারেন।

এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, সার্বভৌম সংসদে ঋণখেলাপিদের ঋণখেলাপি বলা না গেলে আর কোথায় বলা হবে। পরে রুমিন ফারহানাও নিজের বক্তব্যের পক্ষে আবার যুক্তি তুলে ধরেন।

ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দার দাবি

গত ১৭ জুন বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যদের বরাদ্দ দেওয়া ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দা সরবরাহের দাবি জানান চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান। তার এই দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

পরদিন সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিজেপির সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, তিনি মিজানুর রহমানকে একটি মাইক্রোওভেন দিতে চান। একই সঙ্গে ওই সংসদ সদস্যকে ওয়াশিং মেশিন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং পর্দা দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। এই বক্তব্যের পর বিতর্ক আরও বাড়ে।

পার্থের বক্তব্যের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন করেন, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য কি তার কাছে এসব চেয়েছেন? সংসদে দাঁড়িয়ে কারও সম্মানে আ’\ঘাত না করার মতো মানসিকতা থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আন্দালিভ রহমান পার্থের বক্তব্যটি পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় পড়ে না। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আর না বাড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।

স্পিকার আরও বলেন, বাজেট আলোচনায় অনেক ধরনের বিষয় নিয়ে কথা বলা যায়। একজন সংসদ সদস্য তার সুবিধা-অসুবিধার কথা বলেছেন। তিনি শুধু নিজের জন্য এসব চাননি। বিষয়টি সংসদে না বললেও পারতেন, তবে এ কথা বলে বিরোধী দলের ওই সদস্য কোনো গর্হিত অ’\পরাধ করেননি।

সংসদের চেয়ার নিয়েও অভিযোগ

১৭ জুন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষের চেয়ার নিয়ে অভিযোগ তোলেন বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক। তিনি বলেন, চেয়ারগুলোর পেছনের পিন খোলা থাকায় সংসদ সদস্যদের হাত কেটে যাচ্ছে। একই সঙ্গে চেয়ারগুলোর ওজন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তার ভাষ্য, অধিবেশন কক্ষে ৩০০টির বেশি চেয়ার রয়েছে। চেয়ারগুলোর পেছনে প্রায় তিন ইঞ্চি ফাঁকা জায়গা রয়েছে। সেখানে বসার সময় ওই ফাঁকা অংশ পূরণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। অনেক তরুণ সংসদ সদস্যও ঠিকমতো এসব চেয়ারে বসতে পারেন না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে জাতীয় সংসদে এ ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা দেখা যায়।

নারী সদস্যদের পোশাক নিয়ে বক্তব্যে উত্তেজনা

জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংসদের বাইরেও ধর্মীয় দলগুলো বক্তব্যটির তীব্র প্রতিবাদ জানায়। কেউ কেউ বিষয়টিকে ফরজ বিধানের অবমাননা হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।

গত ১৪ জুন বক্তব্যের একপর্যায়ে বিরোধী দলের নারী সংসদ সদস্যদের ইঙ্গিত করে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “…কিন্তু বুঝলাম না তো কারা আপনারা?”

তার এই মন্তব্যের পর বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। এতে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কয়েক মিনিটের জন্য অধিবেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে মনিরুল হক চৌধুরীর মন্তব্যটি কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

পরে বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, সংসদে বিরোধী দলের নারী সদস্যদের পোশাক নিয়ে যে ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে, তা অমার্জনীয় অ’\পরাধ। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এ ধরনের বক্তব্য বর্ণবাদী আচরণের শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, এমন পরিস্থিতি তিনি প্রত্যাশা করেননি। তার কোনো বক্তব্য বা আকার-ইঙ্গিতে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে সেটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ করবেন। তার ধারণা, বিরোধী দলের সদস্যরা বক্তব্যটি ভুল বুঝেছেন।

বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে বক্তব্যে হাস্যরস

গত ১৬ জুন বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য জীবা আমিন খান বাংলা ও ইংরেজির মিশ্রণে বক্তব্য দেন। দেশের কাঁচা রাস্তা ও ভাঙাচোরা সড়ক নিয়ে বিরোধী দলের একজন সদস্যের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “সিক্সটিন হানড্রেড মাইল অফ কাঁচা রাস্তা। দ্য রাস্তাস আর ভেরি ভেরি ব্যাড সিচুয়েশন, দিস ইজ ডিউ টু দুর্নীতি। দ্যাট ইউ হ্যাভ সিন, ফ্রম দ্য প্রিভিয়াস রিজিম।”

বাংলা ও ইংরেজি মিশিয়ে দেওয়া তার প্রায় ১১ মিনিটের বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বক্তব্যে ইংরেজি ব্যাকরণের ভুল ও মিশ্র ভাষারীতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

সংসদে চানাচুরের পুষ্টিগুণ

বাজেট আলোচনায় চানাচুরের পুষ্টিগুণ তুলে ধরেন গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। গত ১৪ জুন বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বিরোধী দলের বক্তব্যকে কটাক্ষ করে চানাচুরে কী ধরনের পুষ্টিগুণ রয়েছে, তার বিবরণ দেন।

তিনি বলেন, “‘উজিরে খামাখা’ একজন ছিলেন, তার সঙ্গে টকশো করতে গিয়ে শুনলাম আট লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকার ছায়া বাজেট করেছেন।”

বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে শামীম কায়সার বলেন, বাজেটে চানাচুরের পুষ্টিগুণ জানার জন্য একটি কমিটি গঠনের বরাদ্দ থাকলে ভালো হতো। বিষয়টি চানাচুরের কৌটা নয়, বরং চানাচুরের পুষ্টিগুণ।

তিনি বলেন, সাধারণভাবে খুঁজলেই দেখা যায় চানাচুরে কিছু পুষ্টিগুণ রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম চানাচুরে প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ কিলোক্যালরি, ৩৫ গ্রাম ফ্যাট, ১০ গ্রাম প্রোটিন, পাঁচ গ্রাম ফাইবার এবং ৮০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে।

এই তথ্য তুলে ধরার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বিরোধী দল থেকে বলা হয়েছে বাজেটটি চানাচুরের মতো খেতে ভালো লাগলেও এতে কোনো পুষ্টিগুণ নেই। কিন্তু বিষয়টি আসলে তেমন নয়।

এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, বাজেটটি দেখতে সুন্দর এবং সাময়িকভাবে আকর্ষণীয় বা খেতে ভালো হলেও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মতো প্রয়োজনীয় কোনো ‘পুষ্টিগুণ’ এতে নেই।

চালুনি-সুচের উপমা কার্যবিবরণী থেকে বাদ

গত ১৬ জুন নীলফামারী-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার বাজেট নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় উদাহরণ হিসেবে চালুনি ও সুচের কথোপকথন তুলে ধরেন।

বক্তব্যটির কিছু অংশকে ‘অরুচিকর ও অ’\শ্লীল’ উল্লেখ করে তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশ দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সংসদীয় রীতি ও নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে সদস্যদের সতর্ক করেন তিনি।

মুক্তিযোদ্ধাদের জামায়াত করা নিয়ে বিতর্ক

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের একটি বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেছিলেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা কিংবা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য জামায়াত করতে পারেন না। কেউ তা করলে সেটি ‘ডাবল অ’\পরাধ’ হবে।

এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সদস্যদের নিবৃত্ত করতে পারছিলেন না এবং তিনি নিজের আসন থেকে দাঁড়িয়ে যান।

পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে স্পিকার সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, পুরো জাতি সংসদের কার্যক্রম দেখছে এবং অধিবেশন সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। সংসদ বিধি অনুযায়ী পরিচালিত না হলে এই সংসদ আর থাকবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সদস্যদের কর্মকাণ্ড দেখে শিশুরাও লজ্জা পেতে পারে মন্তব্য করে স্পিকার বলেন, সংসদ সদস্যদের মধ্যে যারা ইতোমধ্যে দাদা হয়েছেন, তাদের নাতিরা হয়তো গ্যালারিতে বসে এসব দেখছে। তারা সংসদের সদস্যদের আচরণ দেখে কী ভাববে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এ ছাড়া চলতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ও বর্তমান অধিবেশনে জাতীয় ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরকারি ও বিরোধী দলের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের নানা বিতর্কিত বক্তব্য সংসদের ভেতরে ও বাইরে উত্তাপ ছড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের বক্তব্য

সংসদে বেফাঁস ও বিতর্কিত বক্তব্য প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় হুইপ এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান আমার দেশকে বলেন, সংসদকে প্রাণবন্ত ও কার্যকর রাখার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকারি দলের সদস্যরা অপ্রাসঙ্গিক ও অতিরিক্ত কথা বলে সংসদে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছেন।

তার অভিযোগ, অনেক সময় সরকারি দলের সদস্যরা অতিরিক্ত দলীয় কর্মসূচি নিয়েও সংসদে হাজির হচ্ছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ব্যাংকলুটকারী এস আলমের পক্ষে সংসদে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তারা সংসদকে সুষ্ঠু ও সচল রাখার দাবি জানাচ্ছেন।

বিভিন্ন বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ হওয়ার বিষয়ে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের অনেক বক্তব্য বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলের সদস্যদেরও এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়।

তিনি দাবি করেন, তাদের সংসদ সদস্যরা মূলত নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের প্রয়োজন নিয়ে সংসদে কথা বলছেন। আগামী দিনে তারা যেন আরও সংযত ভাষায় প্রয়োজনীয় বক্তব্য দিতে পারেন, সে জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সরকারদলীয় জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এবারের সংসদে অনেকেই প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। তারা মনের কথা বলতে গিয়ে হয়তো কখনো কখনো অপ্রয়োজনীয় কথাও বলে ফেলছেন।

তবে তার দাবি, আগের সংসদগুলোতে আরও বেশি অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা হতো। এবারের সংসদের চিত্র ভিন্ন এবং এই সংসদ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী কথা বলার বিষয়ে সদস্যদের সতর্ক থাকতে হবে। স্পিকারও এ বিষয়ে সবাইকে নিয়মিত সতর্ক করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কার্যপ্রণালি বিধি মানলে কমবে বিতর্ক

সূত্রমতে, জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে সদস্যদের বক্তৃতার সময় বেশ কিছু নির্দেশনা অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে বিচারাধীন কোনো বিষয় উল্লেখ না করা, আ’\ক্রমণাত্মক, কটু কিংবা অ’\শ্লীল ভাষা ব্যবহার না করার নির্দেশনাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সংসদ সদস্যরা এসব নির্দেশনা সঠিকভাবে মেনে চললে তাদের বক্তব্য আরও সংযত, প্রাসঙ্গিক ও বিতর্কমুক্ত হবে। একই সঙ্গে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদের মূল্যবান সময়ও যথাযথভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।