প্রথম ম্যাচের হতাশা ঝেড়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই নিজের পরিচিত ছন্দে ফিরলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (Cristiano Ronaldo)। গত মঙ্গলবার রাতে বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত জোড়া গোল করেন পর্তুগালের এই মহাতারকা। তার অনবদ্য পারফরম্যান্সে পর্তুগাল ৫-০ গোলের বড় জয় তুলে নিলেও ম্যাচ শেষে মাঠের বাইরের এক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
উজবেকিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারানোর পর ক্যামেরার সামনে রোনালদো আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন, ‘আই অ্যাম ব্যাক’—অর্থাৎ, ‘আমি ফিরে এসেছি’। পরে মিক্সড জোনে সাংবাদিকরা এ মন্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি সংক্ষিপ্ত উত্তর দেন, ‘যাতে মানুষ ভুলে না যায়।’
রোনালদোর এই বার্তা অবশ্য সবাই একইভাবে গ্রহণ করেননি। বিশেষ করে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ (Zlatan Ibrahimović) বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যেই কটাক্ষ করেছেন। ফক্স স্পোর্টসের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে সুইডিশ কিংবদন্তি বলেন, ‘ওর বার্তার কথা যদি বলি, আমার তো মনে হয় না সে কোথাও হারিয়ে গিয়েছিল। জানি না কেন বলল, আই অ্যাম ব্যাক। এটা তো গোল করারই ম্যাচ ছিল। এটি ছিল এমন এক ম্যাচ, যেখানে পর্তুগালের অনেক গোল করার কথা।’
ইব্রাহিমোভিচের বক্তব্যের পেছনে রয়েছে প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তার বিষয়টি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া উজবেকিস্তান (Uzbekistan) আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় শক্তিগুলোর তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে। নিজেদের প্রথম ম্যাচেও তারা কলম্বিয়া (Colombia)-র কাছে ৩-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল। তাই ইব্রার দৃষ্টিতে এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোলের বন্যা বইয়ে দেওয়া পর্তুগালের জন্য খুব একটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
তবে সমালোচনা কিংবা খোঁচার আড়ালে হারিয়ে যায়নি রোনালদোর অর্জন। বরং এই ম্যাচ দিয়েই তিনি ফুটবল ইতিহাসে দুটি অনন্য বিশ্বরেকর্ড নিজের নামে লিখিয়েছেন। প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অসাধারণ কীর্তি গড়েছেন তিনি। একই সঙ্গে লিওনেল মেসি (Lionel Messi)-কে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে জোড়া গোল করা খেলোয়াড়ের রেকর্ডও এখন তার দখলে।
রোনালদোর ক্যারিয়ারজুড়ে সমালোচনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু বড় মঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে আসার অভ্যাসও তার পুরোনো। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোলের রাতটি যেন আবারও সেই বার্তাই দিল। সমালোচকদের উদ্দেশে সিআরসেভেনের অবস্থান স্পষ্ট—তারকা এখনো আলো ছড়াতে জানেন, আর নিজেকে শেষ হয়ে যাওয়া ভাবার সুযোগ এখনো কাউকে দেননি।


