খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (Khulna University)-এর ৩৪ বছরের ইতিহাসে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে গেলেও কর্মস্থলে আর ফিরে আসেননি ৩৯ জন শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে কয়েকজন নির্ধারিত ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন, আর বাকিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের দুই বছর পর একজন শিক্ষক বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষা ছুটির আবেদন করতে পারেন। মাস্টার্স বা এমফিল ডিগ্রির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন বছর এবং পিএইচডি ডিগ্রির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বেতনসহ শিক্ষা ছুটি ভোগের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে আরও দুই বছর ছুটি নেওয়া গেলেও ওই সময়ে কোনো বেতন-ভাতা প্রদান করা হয় না। অর্থাৎ সর্বোচ্চ সাত বছর পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে কর্মস্থলে ফিরে যোগদান করতে হয়, অন্যথায় চাকরি বাতিলের বিধান রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, পিএইচডি, এমএসসি এবং পোস্টডক্টরাল গবেষণার জন্য বিদেশে যাওয়া এসব শিক্ষকের মধ্যে অনেকেই নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও কর্মস্থলে ফেরেননি। এছাড়া সাত থেকে আটজন শিক্ষক ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান (Prof. Dr. Mahbubur Rahman) বলেন, শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ করে দিতেই শিক্ষা ছুটি প্রদান করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষে কর্মস্থলে যোগদান না করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের করণীয় সীমিত হয়ে পড়ে।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। পাশাপাশি পদত্যাগকারী শিক্ষকদের কাছ থেকেও প্রাপ্ত অর্থ ফেরত আদায়ের লক্ষ্যে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও ১১ থেকে ১২ জন শিক্ষককে কর্মস্থলে ফিরে আসার জন্য লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী (Prof. Dr. Md. Nurunnabi) বলেন, অডিট আপত্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে কয়েকজন শিক্ষক আংশিক অর্থ পরিশোধ করেছেন, কেউ কিস্তিতে পরিশোধের আবেদন করেছেন এবং কয়েকজন অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন।
এদিকে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ খান (Prof. Dr. Md. Harunur Rashid Khan) বলেন, শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে আর দেশে না ফেরার প্রবণতা বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। এটি একদিকে রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতির কারণ, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
তিনি আরও বলেন, এসব পদ দীর্ঘ সময় শূন্য থাকায় নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে শিক্ষক সংকট তৈরি হয় এবং এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। উচ্চশিক্ষার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষকরা বিদেশে স্থায়ী হয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় যেমন দক্ষ জনবল হারায়, তেমনি শিক্ষার্থীরাও মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্নের মুখে পড়ে।
