ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka)-এ অনা’\র্স (স্নাতক) প্রোগ্রাম ধাপে ধাপে ব’\ন্ধ করার বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম (Mahfuj Alam)। বুধবার (১ জুলাই) নিজের ফেসবুক পেজে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কথা’ শীর্ষক এক পোস্টে তিনি এ মতামত তুলে ধরেন।
মাহফুজ আলম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গত চার থেকে পাঁচ প্রজন্ম ধরে দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে কীভাবে অনা’\র্স প্রোগ্রাম ব’\ন্ধ করা যায়, সে বিষয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক ও গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা উচিত, যেখানে কেবল মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালিত হবে।
তিনি প্রস্তাব করেন, দেশব্যাপী কনস্টিটুয়েন্ট কলেজগুলোতে অধ্যয়ন করে শিক্ষার্থীরা অনা’\র্স সম্পন্ন করলেও তারা ‘গর্বিত’ ঢাবিয়ান হিসেবে পরিচিত হতে পারবেন। একইভাবে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ থেকে অনা’\র্স শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স বা পিএইচডি সম্পন্ন করেও ‘গর্বিত’ ঢাবিয়ান হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও গবেষণা কেন্দ্রগুলো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, গবেষক শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং রাষ্ট্রের বর্তমান প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গবেষণা পরিচালিত হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, জাতীয়তাবাদের প্রভাবের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাস ও বাংলা ভাষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে এই প্রবণতা রাজনৈতিক দালালির পর্যায়েও পৌঁছেছে। তাই ভাষা শিক্ষাকে আরও বিশেষায়িত করতে হবে এবং ইতিহাসচর্চার সঙ্গে সমাজবিদ্যার সমন্বয় ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে আধুনিক সমাজবিদ্যা ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় অধিক গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার পরিধি নতুনভাবে সাজানোর আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষক রাজনীতি ব’\ন্ধের পক্ষে মত দিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ছাত্র রাজনীতি ডাকসুনির্ভর হওয়া উচিত। শিক্ষক ও গবেষণা সহকারী নিয়োগে কেবল মেধা ও কর্মদক্ষতাকে মূল্যায়ন করতে হবে। বিদেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ভালো ডিগ্রি ও ফলাফল অর্জন করেও নিয়োগ না পাওয়ার যে সংস্কৃতি রয়েছে, সেটি ব’\ন্ধ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি অযোগ্য ও দালাল শিক্ষকদের এই পবিত্র পেশা থেকে বিদায় করার আহ্বান জানান।
নিজের প্রস্তাবে তিনি আরও বলেন, ঢাকা কলেজ (Dhaka College), ইডেন কলেজ (Eden Mohila College), লালবাগ, হোসেনি দালান, কেন্দ্রীয় কারাগারসহ পুরান ঢাকার প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে একটি পৃথক প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনা উচিত। এই অঞ্চলকে বিশ্ববিদ্যালয় ও হেরিটেজ সিটি হিসেবে ঘোষণা করারও প্রস্তাব দেন তিনি।
এ ছাড়া এই প্রস্তাবিত শহরের জন্য পৃথক মেয়র নির্বাচন এবং আলাদা সংসদীয় আসনের কথাও উল্লেখ করেন মাহফুজ আলম। তাঁর মতে, এ এলাকায় নতুন কোনো ভবন নির্মাণ করা যাবে না, কোনো গাছ কাটা যাবে না এবং কোনো জলাশয় ভরাট করা যাবে না। দীর্ঘমেয়াদে এই হেরিটেজ সিটির পরিধি আহসান মঞ্জিল (Ahsan Manzil), ফরাশগঞ্জ, নর্থব্রুক হলসহ বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এতে মুগল ও ব্রিটিশ আমলের শত শত মসজিদ, মন্দির, উপাসনালয় এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পোস্টের শেষাংশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মাহফুজ আলম। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অ্যালামনাই এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছাও জানান তিনি।
