বা’\স্তাবন্দি করে জীবিত অবস্থাতেই পুকুরে ফে’\লে দেওয়া হয়েছিল কিশোরীকে, ময়না’\তদন্তে মিলল নতুন তথ্য

কলকাতার বারুইপুরে এক মুসলিম কিশোরীকে হ’\ত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ময়না’\তদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের ধারণা, কিশোরীকে খু’\ন করে নয়, বরং জীবিত অবস্থাতেই বা’\স্তাবন্দি করে পুকুরে ফে’\লে দেওয়া হয়েছিল।

প্রাথমিক ময়না’\তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিশোরীর ফুসফুসে কাদা মিশ্রিত পানি পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের মতে, মৃ’\তদেহ পানিতে ফে’\লে দিলে সাধারণত এমনটি হয় না। ফুসফুসে পানি থাকার অর্থ, পানিতে পড়ার সময় তিনি জীবিত ছিলেন এবং ডুবে যাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেই শ্বাসরোধ ঘটে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিশোরীর যৌনাঙ্গে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা যৌন নি’\র্যাতনের ইঙ্গিত দেয়। মাথাতেও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের ধারণা, ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল অথবা শক্ত কোনো স্থানে মাথা আছড়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই আঘাতে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং পানিতে ডুবে শ্বাসরোধ—এই দুটি বিষয়কে সম্ভাব্য মৃ’\ত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ময়না’\তদন্তকারী চিকিৎসকেরা। তাদের ধারণা, শনিবার গভীর রাতেই কিশোরীর মৃ’\ত্যু হয়।

ময়না’\তদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গ্রে’\প্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য মিলিয়ে পুরো ঘটনার পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে।

পুলিশের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে শনিবার বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটে সূর্যপুর বাজারের মূল সড়ক দিয়ে কিশোরীকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। তার কয়েক কদম পেছনে লাল টি-শার্ট পরা এক যুবককে দেখা যায়। স্থানীয়রা ওই যুবককে প্রভাস মণ্ডল হিসেবে শনাক্ত করেন। পরদিন রোববার সকাল সাতটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একটি পুকুর থেকে কিশোরীর মৃ’\তদেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, প্রভাস এলাকায় মাদকাসক্ত ও বেকার যুবক হিসেবে পরিচিত। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও কয়েকজনের নাম জানতে পারে পুলিশ। তবে তার দেওয়া তথ্যের মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। প্রথমে তিনি ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করলেও পরে জানান, চারজন তার কাছ থেকে কিশোরীকে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে আনন্দ সর্দারকে তিনি চিনতেন বলেও দাবি করেন। প্রভাসের ভাষ্য অনুযায়ী, আনন্দ কিশোরীকে অপহরণ করে তার বাবার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেছিলেন।

তদন্তকারীদের মতে, প্রভাস এখনও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন। তিনি দাবি করেছেন, আনন্দই কিশোরীকে শ্বাসরোধ করে হ’\ত্যা করেছেন। কিন্তু তদন্তকারীদের প্রশ্ন, যদি তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না-ই থাকেন, তাহলে কে কীভাবে হ’\ত্যা করেছে বা মৃ’\তদেহ কোথায় ফে’\লা হয়েছে—এসব তথ্য তিনি জানলেন কীভাবে?

শুধু প্রভাস নন, গ্রে’\প্তার হওয়া অন্যদের বক্তব্যেও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। এখন পর্যন্ত তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের ধারণা, অভিযুক্তরা ঘটনার সময় নেশাগ্রস্ত ছিলেন।

যৌন নি’\র্যাতনের পর কেন কিশোরীকে হ’\ত্যা করা হলো, তা নিয়ে দুটি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রথমত, নির্যাতিতা ও অভিযুক্তরা একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় কিশোরী অভিযুক্তদের চিনে ফেলেছিল। সেই কারণে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে হ’\ত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

দ্বিতীয় সম্ভাবনা হিসেবে তদন্তকারীরা মনে করছেন, শনিবার রাত আটটার পর থেকেই কিশোরীর খোঁজ শুরু হওয়ার খবর অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছে যায়। ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে তিনি অজ্ঞান হয়ে গেলে বা’\স্তাবন্দি করে পুকুরে ফে’\লে দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, পুকুরে ফে’\লার সময়ও কিশোরী জীবিত ছিলেন। এক প্রতিবেশীর ভাষ্য, ‘তার দিয়ে বাঁধা বা’\স্তাটি ছেঁড়া ছিল। মনে হয় শেষবারের মতো বের হওয়ার চেষ্টা করেছিল মেয়েটি।’

ঘটনাটি ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, বিক্ষোভ ও বিচার দাবির কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন প্রতিবাদকারী। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।