বিদেশি পর্যটকদের জন্য ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালু করল সৌদি আরব, এক প্যাকেজেই ভিসা-ফ্লাইট-হোটেল

বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সমন্বিত করতে নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ পাইলট কর্মসূচি চালু করেছে সৌদি আরব (Saudi Arabia)। এই ব্যবস্থায় পর্যটকদের জন্য আলাদা করে ভিসা, বিমান টিকিট কিংবা আবাসনের ঝামেলায় যেতে হবে না। বরং একটি সমন্বিত ট্রাভেল প্যাকেজের মধ্যেই পর্যটন ভিসা, যাওয়া-আসার বিমান টিকিট, হোটেল বুকিংসহ প্রয়োজনীয় ভ্রমণসেবা পাওয়া যাবে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ (Gulf News)। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন এই উদ্যোগ বিদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য দেশটিতে প্রবেশ ও অবস্থানকে আরও সহজ, স্মার্ট ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ (Saudi Press Agency) জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত ভ্রমণ ও পর্যটনসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অর্থাৎ, পাইলট কর্মসূচির আওতায় শুরুতে কেবল নির্বাচিত ও অনুমোদিত সেবা প্রদানকারীরাই এই প্যাকেজভিত্তিক ভিসা সুবিধা দিতে পারবে।

নতুন ব্যবস্থায় ভ্রমণকারীরা একই প্রক্রিয়ার মধ্যেই যাওয়া-আসার বিমান টিকিট, লাইসেন্সপ্রাপ্ত হোটেলে থাকার ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক পর্যটন ভিসার আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। শুধু মৌলিক ভ্রমণসেবাই নয়, পর্যটকের ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন অনুষ্ঠান, পর্যটন কার্যক্রম এবং বিশেষ অভিজ্ঞতাও প্যাকেজের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ থাকবে। ফলে আলাদা করে ফ্লাইট বুকিং, হোটেল নিশ্চিতকরণ কিংবা ভিসা আবেদনের মতো একাধিক ধাপ পেরোনোর প্রয়োজন কমে আসবে।

তবে এই সুবিধা সব ট্রাভেল এজেন্সি দিতে পারবে না। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল সেইসব অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সিই প্যাকেজ ভিসা সেবা দিতে পারবে, যাদের নিজস্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সার্বক্ষণিক বা ২৪ ঘণ্টা গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও থাকতে হবে। অর্থাৎ, পর্যটকের ভ্রমণ-সংক্রান্ত প্রতিটি ধাপে সেবা প্রদানকারীর প্রস্তুতি ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সৌদি সরকারের ভিশন ২০৩০ (Vision 2030) কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পর্যটন শিল্পকে আরও গতিশীল করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে পর্যটন, বিনোদন ও সেবাভিত্তিক খাতকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। নতুন প্যাকেজ ভিসা ব্যবস্থা সেই বৃহত্তর রূপান্তর পরিকল্পনারই আরেকটি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে পর্যটন মন্ত্রণালয় (Ministry of Tourism)। তাদের নেতৃত্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বীমা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে উদ্যোগটি এগিয়ে নিচ্ছে। একাধিক সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত হওয়ায় এই কর্মসূচিকে শুধু ভিসা সহজীকরণ নয়, বরং পর্যটন ব্যবস্থাপনার একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল কাঠামো হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এর আগে সৌদি আরব ই-ভিসা, অন-অ্যারাইভাল ভিসা এবং স্টপওভার ট্রানজিট ভিসার মতো একাধিক সহজীকৃত প্রবেশব্যবস্থা চালু করে। এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় দেশটির পর্যটন খাতে বিদেশি দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে সৌদি আরবে ২ কোটি ৯০ লাখের বেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

সৌদি পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খতিব (Ahmed Al-Khateeb) বলেন, নতুন প্যাকেজ ভিসা ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্যটকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরও সহজ, স্মার্ট ও নির্বিঘ্ন হবে। একই সঙ্গে এটি পর্যটন খাতের অংশীদারদের সক্ষমতা বাড়াবে এবং সৌদি আরবকে আরও আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করবে।

সরকারের আশা, এই উদ্যোগ বিদেশি পর্যটকদের দীর্ঘ সময় অবস্থানে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি তারা বেশি পর্যটন কার্যক্রমে অংশ নেবেন এবং দেশটিতে ব্যয়ও বাড়াবেন। সব মিলিয়ে প্যাকেজ ভিসা কর্মসূচি সৌদি আরবের পর্যটন অর্থনীতিকে আরও সম্প্রসারিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।