২০২১ সালে র্যাবের হাতে গ্রে’\প্তার, দীর্ঘ কা’\রাবাস এবং এরপর ব্যক্তিজীবন ও অভিনয় ক্যারিয়ারে নেমে আসা বিপর্যয় নিয়ে এবার খোলামেলা কথা বলেছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি (Pori Moni)। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি সেই কঠিন সময়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা, মানসিক যন্ত্রণা এবং হারিয়ে যাওয়া সম্মানের কথা তুলে ধরেন।
স্ট্যাটাসে পরীমণি র্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলাম (Khairul Islam)-কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে তিনি তৎকালীন র্যাবপ্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন (Chowdhury Abdullah Al Mamun)-এর নির্দেশে পরীমণিকে ‘অন্যায়ভাবে ও সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে’ গ্রে’\প্তার করার কথা স্বীকার করেন। দেরিতে হলেও প্রকাশ্যে এই সত্য স্বীকার করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।
পরীমণি লেখেন, “দেরিতে হলেও আপনি সত্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যার মাধ্যমে দেশের মানুষ জানতে পারল ২০২১ সালের ৪ আগস্ট আমার বাসায় অভিযানের নামে নাটকীয়তার পর আমাকে কেন গ্রে’\প্তার করা হয়েছিল।”
সেই ঘটনার পর একটি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় টানা ২৮ দিন কা’\রাগারে থাকার অভিজ্ঞতা নিজের জীবনকে কতটা ওলটপালট করে দিয়েছিল, স্ট্যাটাসে তা-ও তুলে ধরেন তিনি। পরীমণির ভাষায়, “সেই অভিজ্ঞতার ক্ষত আমার জীবনকে কতটা বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। একজন সাধারণ নারী শিল্পী হিসেবে আমার সম্মান ও চরিত্রকে যেভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশ (Bangladesh)-এর ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায়।”
পরীমণির বক্তব্যে শুধু ব্যক্তিগত কষ্ট নয়, উঠে এসেছে রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার প্রশ্নও। হারিয়ে যাওয়া দিন, ক্ষতিগ্রস্ত সম্মান এবং মানসিক শান্তি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না—সেই প্রশ্ন সরাসরি রাষ্ট্রের সামনে রেখেছেন তিনি। একই সঙ্গে মানুষের মনে তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া অসত্য ও বিতর্কিত ধারণার দায় কে নেবে, সেটিও জানতে চেয়েছেন এই চিত্রনায়িকা।
তিনি লেখেন, “আমার সেই হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে? আমি সব সময় শিল্পী হিসেবে মানুষের ভালোবাসা নিয়ে বাঁচতে চেয়েছি, কিন্তু একটি ঘটনার অভিঘাত আমার জীবনকে চিরতরে বদলে দিয়েছে।”
তবে এত কষ্ট ও ক্ষোভের পরও কারও প্রতি ঘৃণা কিংবা প্রতিশোধের মনোভাব নেই বলে জানিয়েছেন পরীমণি। তার ভাষ্য, তিনি শুধু সত্য, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে চান। ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এমন অন্যায়ের শিকার না হন—সেই প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা যেন অটুট থাকে, সেটিও তার কামনা।
নিজের জীবনের সেই কঠিন অধ্যায়ে যারা পাশে ছিলেন, তাদের প্রতিও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পরীমণি। পরিবার, সহকর্মী, সাংবাদিক এবং ভক্তদের ভালোবাসা ও সমর্থনের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, অতীতের ক্ষত আঁকড়ে ধরে আর বাঁচতে চান না। বরং সব যন্ত্রণা পেছনে ফেলে নতুনভাবে সামনে এগিয়ে যেতে চান।
পরীমণি লেখেন, “অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতো করেই উড়তে চাই। কাজ, সন্তান, পরিবার এবং দর্শকদের ভালোবাসাকে পুঁজি করেই বাকি জীবন বাঁচতে চাই।”
তার বিশ্বাস, সত্যকে অনন্তকাল চাপা দিয়ে রাখা যায় না। একইভাবে ন্যায়বিচারের পথে চলাও কখনো অর্থহীন বা বৃথা হয় না। দীর্ঘ সময় পর সেই ঘটনার নেপথ্যের সত্য প্রকাশ্যে আসায় তার বক্তব্যে একদিকে যেমন স্বস্তি ফুটে উঠেছে, অন্যদিকে রয়ে গেছে হারানো সময় ও সম্মান ফিরে না পাওয়ার গভীর আক্ষেপ।
স্ট্যাটাসের শেষদিকে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে নিজের জন্য দোয়া চেয়েছেন পরীমণি। ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজের মাধ্যমে দর্শকদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চান বলেও জানিয়েছেন তিনি। অতীতের ক্ষতকে পেছনে রেখে সন্তান, পরিবার, অভিনয় এবং দর্শকের ভালোবাসা নিয়েই জীবনের বাকি পথ এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই অভিনেত্রী।
