স্পে’\নের শক্তির প্রশংসা করার চেয়ে তাদের দুর্বলতা খুঁজে বের করাই যেন এখন বড় চ্যালেঞ্জ। পুরো বিশ্বকাপজুড়ে ধারাবাহিকভাবে দাপুটে ফুটবল উপহার দেওয়া দলটির খেলায় এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো দুর্বলতার দিক চোখে পড়েনি। আক্রমণ, মাঝমাঠ ও রক্ষণ—প্রতিটি বিভাগেই তারা নিজেদের পরিপূর্ণতা দেখিয়ে প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে স্পেন (Spain)-এর প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার মূলমন্ত্র হিসেবে তুলে ধরেছিলেন ‘একতাবদ্ধ’ স্পেনের কথা। তবে স্কোয়াড ঘোষণার পর রিয়াল মাদ্রিদ (Real Madrid)-এর কোনো ফুটবলার না থাকায় সমর্থক ও বিশ্লেষকদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেই সব সংশয় একে একে মুছে দিয়েছে স্পেন, প্রমাণ করেছে দলগত শক্তিই তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
২৬ সদস্যের এই স্কোয়াডে রয়েছেন বার্সেলোনা (FC Barcelona)-এর আটজন ফুটবলার। এর সঙ্গে পিএসজির ফ্যাবিয়ান রুইজ, অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের অ্যালেক্স বায়েনা, ম্যানচেস্টার সিটি (Manchester City)-এর ব্যালন ডি’অরজয়ী রদ্রি এবং রিয়াল সোসিয়েদাদের স্ট্রাইকার মিকেল ওয়ারজাবাল (Mikel Oyarzabal)-এর মতো অভিজ্ঞ ও মানসম্পন্ন ফুটবলারদের উপস্থিতি দলটিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করেছে।
চলতি টুর্নামেন্টে পাঁচ গোল করে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন ওয়ারজাবাল। ফাইনালেও যদি তিনি নিজের গোল করার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দলকে শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন, তাহলে স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে নিজের জন্য বিশেষ একটি জায়গা নিশ্চিত করার সুযোগ থাকবে তার সামনে।
এদিকে লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো এবং পাউ কুবার্সির মতো তরুণ ফুটবলারদের পারফরম্যান্স স্পেনকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। আক্রমণে ওলমোর সৃজনশীলতা, ইয়ামালের গতিময়তা এবং কুবার্সির দৃঢ় রক্ষণ দলটিকে করেছে আরও পরিপূর্ণ। এই দলটি এতটাই ভারসাম্যপূর্ণ যে, ইউরো জয়ী নিকো উইলিয়ামসের মতো তারকাকেও নিয়মিত বড় ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে না। সেটিই স্পষ্ট করে দেয়, ব্যক্তিনির্ভরতার বদলে সমষ্টিগত শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান স্পেন কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠেছে।


