যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি (Labour Party)-র নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছেন ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র ও বামঘেঁষা রাজনীতিক অ্যান্ডি বার্নহ্যাম (Andy Burnham)। এর মধ্য দিয়ে তিনিই হচ্ছেন দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার (১৭ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
মেকারফিল্ডের এই এমপি আগামী সোমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার (Keir Starmer)-এর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি।
দলের নতুন নেতা এবং হবু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মঞ্চে ওঠার পর উপস্থিত নেতা-কর্মীরা দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। দায়িত্ব গ্রহণের পরই আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বার্নহ্যাম ঘোষণা দেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান।’
বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘এটি এক অনন্য মুহূর্ত।’
এরপর তিনি দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও রাজনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরেন। নিজের অতীতের ভুল-ত্রুটির কথাও অকপটে স্বীকার করেন বার্নহ্যাম।
তিনি বলেন, ‘আমি হয়তো সব সময় সব কিছু ঠিক করতে পারিনি। যেখানে আমার ঘাটতি ছিল, তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। তবে আমি সবসময় আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি।’
বক্তব্যের শেষ অংশে তিনি দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি জানি আমি কী বিশ্বাস করি এবং আমি কী করতে চাই। আমার কাছে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। আমি আপনাদের সবার ওপর বিশ্বাস রাখি এবং আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমরা এটি করতে পারব।’
বার্নহ্যাম আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন এবং একজন আরও দক্ষ নেতা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি লেবার পার্টিতে আবারও ‘আশা’ ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
দায়িত্ব নিয়েই বার্নহ্যামের পাঁচ প্রতিশ্রুতি
১. ‘এক লেবার টিম’ গঠন
দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে লেবার পার্টির অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বার্নহ্যাম বলেন, দলাদলি দলকে দুর্বল করেছে। একটি বিভক্ত দল কখনোই ব্রিটেনের নতুন ডানপন্থী শক্তিকে পরাজিত করতে পারবে না। তাই তিনি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী লেবার পার্টি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
২. নতুন ধারার রাজনীতি
বার্নহ্যামের দাবি, দেশের মানুষ এখন রাজনীতিতে পরিবর্তন চায়। মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে নিজের সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সৎভাবে কথা বলার কারণেই ভোটাররা তাকে সমর্থন দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘পরিবর্তনের জন্য এটাই আমাদের শেষ সুযোগ।’
৩. রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় পরিবর্তন
তিনি জানান, প্রয়োজন হলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করবেন। তবে লেবার পার্টি আর অন্য কোনো দলের রাজনৈতিক ধারা অনুসরণ করবে না। বরং নিজেদের নীতি ও আদর্শকে সাহসের সঙ্গে সামনে রেখে এগিয়ে যাবে।
৪. পুরো যুক্তরাজ্যের নেতা হওয়ার অঙ্গীকার
বার্নহ্যাম বলেন, তিনি কেবল কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের নয়, বরং উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম এবং স্কটল্যান্ড (Scotland), ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডসহ পুরো যুক্তরাজ্যের মানুষের নেতা হতে চান। দেশকে একটি অভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে ঐক্যবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
৫. ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
ওয়েস্টমিনিস্টারকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা থেকে ক্ষমতা স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন বার্নহ্যাম। তিনি বলেন, স্থানীয় এলাকাগুলোর হাতে আরও বেশি ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়ে জনগণের কাছাকাছি প্রশাসন গড়ে তুলতে চান।

