‘নাটক কম করেন প্রিয়’, প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনায় নাহিদ ইসলাম; জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে গণআন্দোলন তীব্র করার হুঁশিয়ারি

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে গণআন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মো. নাহিদ ইসলাম (Md. Nahid Islam)। শনিবার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে আয়োজিত এগারো দলীয় জোটের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, তারা ইতোমধ্যে সারাদেশে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছেন এবং শেষ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকায়। এর মধ্যেই যদি সরকার গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে আন্দোলন আরও কঠোর পর্যায়ে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে কঠোর কর্মসূচি দিতে চাই না। কিন্তু সরকার যদি গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে, তাহলে আমরা গণআন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো। সরকারই পরিস্থিতিকে সেই দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু, অন্তরে ছলনা। গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো হলেও জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। আবার মুখে বলা হচ্ছে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। জুলাইয়ের একটি স্লোগান ছিল— “নাটক কম করো প্রিয়”। তারেক রহমানকে বলছি, নাটক কম করেন প্রিয়।’

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, দলটি কখনোই প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল না; বরং ক্ষমতা অর্জনই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। তাঁর ভাষায়, গণঅভ্যুত্থানের সময় তারা ক্ষমতার স্বার্থে আন্দোলনের সঙ্গে ছিল, আর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘একত্রিশ দফার কথা এখন আর বলা হয় না। সংবিধান সংস্কারের কথাও অস্বীকার করা হচ্ছে। অথচ একত্রিশ দফার প্রথম প্রস্তাবই ছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন। এখন সংবিধান সংশোধনের নামে যে প্রহসন চলছে, দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বরিশালে কর্মসংস্থানের সংকট তীব্র। অনেক মানুষ জীবিকার জন্য ঢাকায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন। গত পাঁচ মাসে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি না হয়ে চাঁদাবাজদেরই কর্মসংস্থান হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ, সীমান্ত সুরক্ষা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নির্মূল এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হতে চাই। যারা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল, তাদের সবাইকে আবারও একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে।’

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আঠারো জুলাই শত শত শিক্ষার্থী নি’\হত হয়েছেন। যখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তখন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই রাজপথে নেমে কোটা আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থান থেকে বিপ্লবে রূপ দিয়েছিল। আজকের এই সমাবেশ থেকে আমরা তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।’

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman)। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আরিফুল ইসলাম আদীব (Ariful Islam Adib), ডা. মাহমুদা মিতু এমপি এবং মুজাহিদুল ইসলাম শাহীনসহ এগারো দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।