দাদির আত্মত্যাগেই লামিনে ইয়ামালের স্বপ্নপূরণ, সংগ্রামের গল্পে অনুপ্রেরণার ছাপ

পায়ের জাদুতে খুব অল্প বয়সেই ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়েছেন লামিনে ইয়ামাল (Lamine Yamal)। বার্সেলোনা (FC Barcelona)-র জার্সিতে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেওয়ার পাশাপাশি স্পেন (Spain)-এর হয়ে ইউরোর শিরোপাও জিতেছেন এই তরুণ উইঙ্গার। তবে তার এই অসাধারণ সাফল্যের পেছনে রয়েছে একটি পরিবারের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির গল্প।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া (The Times of India)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে ইয়ামালের জীবনের সেই অনুপ্রেরণাদায়ী অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তার ফুটবল যাত্রার ভিত গড়ে উঠেছিল বহু বছর আগে, যখন তার পৈতৃক দাদি ফাতিমা রোমানি পরিবারের জন্য উন্নত ভবিষ্যতের আশায় মরক্কো ছেড়ে একাই স্পেনে পাড়ি জমান।

কোনো বৈধ কাগজপত্র কিংবা আর্থিক সহায়তা ছাড়াই অচেনা দেশে যাওয়ার সেই সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্পেনে পৌঁছে ফাতিমা প্রথমে আলজেসিরাস ও গ্রানাদায় কিছুদিন অবস্থান করেন। পরে তিনি কাতালুনিয়ার মাতোরো শহরের রকাফোন্দা এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। শুরুতে সেখানে তার কোনো নিরাপত্তা কিংবা আর্থিক স্থিতি ছিল না।

মরক্কোয় রয়ে যাওয়া নিজের সন্তানদের, যাদের মধ্যে ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউইও ছিলেন, স্পেনে এনে নতুন জীবন দেওয়ার লক্ষ্যেই ফাতিমা একাধিক শিফটে কঠোর পরিশ্রম করেন। দিনের পর দিন নিরলস কাজ করে অর্থ সঞ্চয় করার পর শেষ পর্যন্ত তিনি সন্তানদের নিজের কাছে এনে পরিবারকে আবার একত্রিত করতে সক্ষম হন।

পরবর্তীতে ইয়ামালের শৈশবে তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হলে দাদি ফাতিমাই আবার পরিবারের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে ওঠেন। রকাফোন্দার কঠিন পরিবেশের মধ্যেও তিনি ইয়ামালকে আগলে রাখেন, মানসিক স্থিতি দেন এবং ফুটবলের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখতে সবসময় উৎসাহ জুগিয়ে যান।

পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও ইয়ামাল নিজের শেকড় কিংবা দাদির অবদান ভুলে যাননি। মাঠে গোল উদ্‌যাপনের সময় তিনি আঙুল দিয়ে যে ‘৩০৪’ সংখ্যাটি দেখান, সেটি মূলত রকাফোন্দা এলাকার পোস্টকোড (০৮৩০৪)-এর প্রতি তার ভালোবাসা ও শিকড়ের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক।

ইয়ামালের বিভিন্ন মন্তব্য থেকেও স্পষ্ট, ট্রফি জেতার চেয়েও তার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো বাবা, মা এবং দাদিকে ভালো রাখা। ফুটবলে সাফল্য পাওয়ার পর নিজের উপার্জনের অর্থ দিয়ে তিনি রকাফোন্দাতেই দাদি ফাতিমার জন্য একটি বাড়ি কিনে দেন, যেখানে তিনি এখনো বসবাস করছেন। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত তারকায় পরিণত হলেও ইয়ামাল আজও নিজের অতীত, পরিবারের সংগ্রাম এবং দাদি ফাতিমার আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।