খুলনার পাইকগাছা (Paikgachha)-য় পিকনিকের জন্য কেনা গরুর মাংস রান্নার সময় স্বাভাবিক লালচে রং বদলে সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দুপুরে পৌরসভার মডার্ন বেকারি (Modern Bakery)-র কর্মচারীরা পিকনিকের মাংস রান্না করতে গিয়ে বিষয়টি দেখতে পান। পরে রান্না করা মাংসসহ কড়াই নিয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও থানায় যান।
জানা গেছে, মডার্ন বেকারির ২৫ জন কর্মচারী বুধবার গরুর মাংস দিয়ে পিকনিকের আয়োজন করেছিলেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় মাংস কিনতে সকালে তারা পাইকগাছা বাজারের মাংস ব্যবসায়ী ইসমাইল (Ismail)-এর দোকানে যান।
ব্যবসায়ী ইসমাইল তাদের জানান, ওই দিন জ’\বাই করা গরুর সব মাংস এরই মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। তবে তার দোকানের ফ্রিজে ভালো মাংস সংরক্ষিত রয়েছে। প্রয়োজন হলে সেই মাংস থেকে তাদের দেওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।
এরপর সকাল ১০টার দিকে বেকারির কর্মচারী টিটন হোসেন (Titon Hossain) ওই দোকান থেকে চার কেজি মাংস কিনে নিয়ে যান। পরে পিকনিকের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য বাজার-সদাই শেষ করে কর্মচারীরা কড়াইয়ে মাংস রান্না শুরু করেন।
তবে রান্নার প্রায় অর্ধেক শেষ হওয়ার পরই অস্বাভাবিক বিষয়টি তাদের চোখে পড়ে। কর্মচারীরা দেখতে পান, মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়ে সবুজ হয়ে গেছে। হঠাৎ এমন রং পরিবর্তন দেখে উপস্থিত কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিস্ময় ছড়িয়ে পড়ে।
বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তারা রান্না করা মাংসসহ কড়াইটি নিয়ে প্রথমে বিক্রেতা ইসমাইলের দোকানে যান। সেখানে মাংসের অস্বাভাবিক রং পরিবর্তনের বিষয়টি তাকে দেখানো হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঘটনা জানিয়ে কড়াইসহ রান্না করা মাংস নিয়ে তারা পাইকগাছা থানা (Paikgachha Police Station)-য় হাজির হন।
রান্নার মাঝপথে গরুর মাংসের রং লালচে থেকে সবুজ হয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। কী কারণে রান্নার সময় মাংসের এমন অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটেছে, তা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে মাংসের রং সবুজ হয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মাংসটি কত দিন ধরে ফ্রিজে রাখা হয়েছিল, সংরক্ষণের প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না কিংবা রান্নার সময় অন্য কোনো উপাদানের প্রভাবে রং পরিবর্তন হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নেরও তখন কোনো নিশ্চিত উত্তর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের কেউ কেউ মাংসে রাসায়নিক কিংবা অন্য কোনো উপাদান ব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে এমন আশঙ্কার পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পরীক্ষার ফল বা নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে মাংসের রং পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে মাংস বিক্রেতা ইসমাইল দাবি করেন, তিনি ভালো মাংসই বিক্রি করেছেন এবং তাতে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। উল্টো রান্নার সময় অন্য কোনো রাসায়নিক উপাদান ব্যবহারের কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করেন তিনি।
ইসমাইল বলেন, ‘আমি ভালো মাংসই বিক্রি করেছি। মাংসে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। তারা হয়তো রান্নার সময় অন্য কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করেছেন।’
নিজের বক্তব্যের পক্ষে তিনি আরও বলেন, তার দোকান থেকে ওই মাংস আরও অনেক ক্রেতা কিনে নিয়ে গেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত অন্য কোনো ক্রেতা মাংসের রং পরিবর্তন কিংবা এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেননি।
ঘটনার পর রান্না করা মাংসসহ কড়াই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও থানায় নেওয়া হলেও মাংসটি পরীক্ষা করা হয়েছে কি না কিংবা এ বিষয়ে পরবর্তী কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ফলে পিকনিকের আয়োজন ঘিরে শুরু হওয়া এই অস্বাভাবিক ঘটনা এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।


