প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা স্বীকারে ৩৪ দিনের নীরবতা, মোদিকে তোপ সিজেপি প্রধানের

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। ভারতের কক’\রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপ (Abhijit Deep) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করতে প্রধানমন্ত্রীর ৩৪ দিন সময় লেগেছে। এই দীর্ঘ নীরবতাকে তিনি ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ এবং পদত্যাগের দাবি ওঠার পরও সরকার এখনো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করে চলেছে।

এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে ‘দ্রুত বিচার আদালত’ গঠনের ঘোষণা দেন নরেন্দ্র মোদি। তবে দিল্লিকেন্দ্রিক ছাত্র আন্দোলনের সংগঠন কক’\রোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদি বলেন, ‘তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। যারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবে, তাদের রেহাই দেওয়া হবে না।’

এদিকে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস (Sourav Das) সরকারের এই উদ্যোগকে কেবল একটি সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি ‘ব্যান্ড-এইড’ বা ক্ষত ঢাকার অস্থায়ী প্রয়াসের মতো। তার ভাষ্য, বিগত বছরগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কার্যত শাস্তিহীনতার নজির রয়েছে। তাই শুধু আশ্বাসে আস্থা রাখার সুযোগ নেই।

আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

এদিকে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিরোধী দল ভারতের সংসদ (Parliament of India)-এর কার্যক্রম অচল করে দেয়। দিল্লিতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বিক্ষোভের পর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালালেও যন্তর মন্তরে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার মধ্যেও হাজারো আন্দোলনকারী অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে মুম্বাই (Mumbai), চেন্নাই ও হায়দ্রাবাদসহ দেশের বিভিন্ন শহরেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান