শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একে একে বলিউড তারকারা, সালমান-নাসির-প্রীতিদের অবস্থানে নতুন গতি

ভারতের প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে দিল্লির রাজপথে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই তাদের প্রতি সমর্থন জানাতে এগিয়ে আসছেন বলিউডের বর্ষীয়ান ও জনপ্রিয় তারকারা। এর আগে শাবানা আজমী (Shabana Azmi) ও প্রকাশ রাজের মতো শিল্পীরা আন্দোলনের পাশে দাঁড়ালেও, এখন সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন সালমান খান, নাসিরুদ্দিন শাহ, প্রীতি জিনতাসহ আরও অনেক পরিচিত মুখ।

অন্যদিকে, আন্দোলন ঘিরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থনে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান না নেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন বলিউডের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী তারকা। বিশেষ করে খান, কাপুর ও বচ্চন পরিবারের সদস্যদের নীরবতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে এই নীরবতার ভিড়ে ব্যতিক্রম হয়েছেন সালমান খান (Salman Khan)। শাহরুখ খান, আমির খান, অমিতাভ বচ্চন কিংবা কাপুর পরিবারের সদস্যরা যখন প্রকাশ্যে কিছু বলেননি, তখন নিজের ছাত্রজীবনের একটি সাদা-কালো ছবি প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানান ‘ভাইজান’। তার এ অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে ভক্তদের অনেকে লিখেছেন, “টাইগার এখনও বেঁচে আছে।”

গত বুধবার গভীর রাতে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে সালমান লেখেন, আন্দোলনটি শুরু থেকে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা যে সহিংসতায় গড়িয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আ’\হত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস দেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুতর সংকট। একই সঙ্গে উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এবং অভিভাবকদের সমর্থনকে তিনি প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।

তবে সমর্থনের পাশাপাশি সতর্কবার্তাও দিয়েছেন এই অভিনেতা। তার ভাষায়, আন্দোলনটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষাব্যবস্থাকে ঘিরে, তাই এটিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি মনে করেন, এ আন্দোলনের কৃতিত্ব একান্তই শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য এবং সরকারও তাদের দাবির প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। যারা শিক্ষিত হতে চায়, তাদের সবার মঙ্গল কামনাও করেন তিনি।

প্রথমদিকে উদ্বেগ প্রকাশ করে সমালোচনার মুখে পড়া প্রীতি জিনতা (Preity Zinta) পরে আরও স্পষ্ট অবস্থান নেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সমর্থন করা এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার দাবি করা সময়ের প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে দেন, যেন কোনো দেশবিরোধী গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। অনলাইনে বাড়তে থাকা ঘৃণা ও বিভাজন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ (Naseeruddin Shah) সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় দেশ পরিচালনাকারীদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে তিনি সংশ্লিষ্ট সদস্যদের ‘গুণ্ডা’র সঙ্গে তুলনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের আশা না হারিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিংও এক্সে দেওয়া পোস্টে সরকারের মন্ত্রী ও দলীয় নেতাদের সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, তারা নিজেদের ভগবান মনে করছেন কি না। তার ভাষায়, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়টি মানুষ ভুলে যাবে না এবং পরিবর্তনই একমাত্র চিরন্তন সত্য।

অভিনেতা রাজকুমার রাও লিখিত এক বার্তায় বলেন, তরুণরা যখন নিজেদের অবহেলিত মনে করে, তখন রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব তাদের কথা শোনা। প্রতিটি কণ্ঠস্বর সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে শোনার অধিকার রাখে। তবে তিনি জোর দেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনই প্রকৃত শক্তি এবং সহিংসতা কখনোই স্থায়ী সমাধান বয়ে আনে না।

জনপ্রিয় র‍্যাপার হানি সিং সংক্ষিপ্ত বার্তায় লেখেন, “আমাদের দেশের তরুণরা অমর।” অন্যদিকে সংগীতশিল্পী নেহা কক্কর ‘জাস্টিস ফর স্টুডেন্টস’ লেখা একটি ছবি প্রকাশ করে জানান, কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীর পাশে তিনি রয়েছেন। তাদের শক্তি, সাহস ও স্বপ্নের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি প্রার্থনাও করেন।

এদিকে ‘ধুরন্ধর’ খ্যাত অভিনেত্রী আয়েশা খান মুম্বাইয়ের দাদারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে গেলে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদ এবং ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দেশটির জেনজিদের নিয়ে গঠিত ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। দিন যত এগোচ্ছে, আন্দোলন ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেলের মধ্যেও একের পর এক বলিউড তারকার প্রকাশ্য সমর্থন আন্দোলনকারীদের নতুন উৎসাহ জোগাচ্ছে।