সম্প্রতি ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা (Ashna Habib Bhabna)। পবিত্র ভূমিতে অবস্থানকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেখানকার বেশ কিছু ছবিও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এবার ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন তার ওমরাহ করতে যাওয়ার পেছনের গল্প এবং সেই সিদ্ধান্তের আবেগঘন মুহূর্তগুলো।
গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক (Facebook) পেজে দেওয়া এক পোস্টে ভাবনা জানান, তাদের ওমরাহ করতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি অনেকটাই হঠাৎ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেটিকে পুরোপুরি হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্ত বলা ঠিক হবে কি না, তা নিয়েও নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি। কারণ তার বাবা-মা আগে থেকেই ওমরাহ করতে যেতে চাইতেন। গত তিন বছর ধরে ভাবনার নিজেরও যাওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু সেই সিদ্ধান্তে তিনি অটুট থাকতে পারেননি।
অভিনেত্রী লেখেন, ‘আমাদের ওমরাহ করতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা হুট করে হয়। যদিও হুট করে বললে ঠিক হবে কি না। কারণ বাবা-মা সবসময় যেতে চাইতেন। আমিও যেতে চেয়েছি গত তিন বছরে, তবে সত্যি কথা হলো আমি সিদ্ধান্তে অটুট ছিলাম না। কারণ যাব ভেবেছি, তারপর আর হয়নি।’
এবার ঈদের পর ব্যাংকক (Bangkok) গিয়েছিলেন ভাবনা। সেখানে অবস্থানের শেষ রাতে, অর্থাৎ ৬ জুন, পরদিনই তার বাংলাদেশ (Bangladesh)-এ ফেরার কথা ছিল। ওই রাতে গভীর আবেগে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। বান্ধবী দিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় আল্লাহর ঘরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা জানান অভিনেত্রী।
সেই রাতের অনুভূতি তুলে ধরে ভাবনা লেখেন, ‘আমি রাতে অনেক কাঁদছিলাম আর দিয়াকে, আমার বান্ধবী, বলছিলাম—আমি আল্লাহর ঘরে যেতে চাই, যত দ্রুত সম্ভব। আমার যেন কিছুতেই মন মানছিল না। মনে হচ্ছিল, আমি অনেক কাঁদব আল্লাহর ঘরে গিয়ে।’
এরপর খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে। ৬ জুনের সেই আবেগঘন রাতের মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে, ২৫ জুন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রওনা হন ভাবনা। এত দ্রুত নিজের মনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হওয়াকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবেই দেখছেন তিনি।
পোস্টে অভিনেত্রী আরও লেখেন, ‘আমি ফেসবুকে ততটুকুই বলি, যতটুকু বলতে চাই। এই কথাটা এজন্যই বললাম যে, আল্লাহ আমাকে তার ঘরে আসার সুযোগ দিয়েছেন। ৬ তারিখ রাত থেকে ২৫ তারিখ—কয়েক দিনের মধ্যেই আমি আল্লাহর মেহমান হতে পেরেছি।’
ভাবনার ওমরাহ পালন এবং সেখানকার ছবি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে অনেকে নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সমালোচনাতেও মেতেছেন। বিষয়টি অভিনেত্রীর নজর এড়িয়ে যায়নি। নিজের পোস্টে সেই মন্তব্যকারীদের উদ্দেশেও জবাব দিয়েছেন তিনি।
ভাবনা লেখেন, ‘আমার ওমরাহ নিয়ে আপনারা অনেক উত্তেজিত—সবাই না, কিছু মানুষ। আমার ওমরাহ হবে কি হবে না, আজেবাজে মন্তব্য করা—এটা নতুন কিছু নয়। আপনারা যারা বাজে মন্তব্য করেন, তারা সংখ্যায় খুবই কম।’
সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, আল্লাহ না চাইলে কারও পক্ষে কি তার ঘরে যাওয়া সম্ভব? ভাবনার বিশ্বাস, আল্লাহর ইচ্ছা ও অনুমতি ছাড়া কেউ পবিত্র সেই স্থানে পৌঁছাতে পারেন না। তাই ওমরাহ পালন নিয়ে অন্যের মন্তব্যের চেয়ে নিজের নিয়ত এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
অভিনেত্রী লেখেন, ‘তবে এতটুকু আপনারা নিশ্চিত জানেন, আল্লাহ যদি না চান, আপনি কি তার ঘরে যেতে পারবেন?’
নিজের বিশ্বাসের কথা জানিয়ে ভাবনা আরও বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমাকে অনেক ভালোবাসেন। আল্লাহ তার সব বান্দাদের ভালোবাসেন। জানি না আমার ওমরাহ কবুল হয়েছে কি না। আমি কিছু জানি না। তবে এতটুকু জানি, আল্লাহ আছেন। আল্লাহ সব দেখেন। আমার মনে কী আছে, আমার নিয়ত কী—আল্লাহ সব বোঝেন।’
ওমরাহ কবুল হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু না বললেও ভাবনার বক্তব্যে নিজের বিশ্বাস ও নিয়তের প্রতি আস্থা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনার জবাবেও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, একজন মানুষের অন্তরের কথা ও প্রকৃত উদ্দেশ্য আল্লাহর কাছেই সবচেয়ে ভালোভাবে জানা।


