রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘প্রিয় নেতা’—কে এই খাইরুল দেওয়ান?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে বর্তমানে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু খাইরুল দেওয়ান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (Mohammad Shahabuddin)-এর সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ডে নেটিজেনদের মন্তব্যে বারবার উঠে আসছে তার নাম। অনেকে তাকে ‘প্রিয় নেতা’ বলে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি পদে দেখতে চাওয়ার কথাও লিখছেন। ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন—কে এই খাইরুল দেওয়ান, আর কীভাবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এতটা আলোচনার বিষয় হয়ে উঠলেন?

এই আলোচনার সূত্রপাত মূলত ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ওই সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলাকালে খাইরুল দেওয়ানও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে তার দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (Bangladesh Election Commission) তাকে মনোনয়নপত্র সরবরাহ করেনি।

মনোনয়ন ফরম না পাওয়ার প্রতিবাদে আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে খাইরুল দেওয়ানসহ আরও তিন ব্যক্তি মানববন্ধন করেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণাও দেন তারা।

রাজপথ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড

নির্বাচন কমিশন থেকে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ না পেলেও নিজের প্রচার-প্রচারণা থামাননি খাইরুল দেওয়ান। সংবাদ সম্মেলন, জাতীয় প্রেস ক্লাব (National Press Club)-এর সামনে অবস্থান কর্মসূচি এবং ব্যানার হাতে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের সুযোগ চেয়ে ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য দিতে থাকেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার এই অদম্য আগ্রহ এবং তার বিভিন্ন বক্তব্য খুব দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনদের একটি বড় অংশ বিষয়টিকে ট্রোল ও বিনোদনের উপাদান হিসেবে গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার ওপর হামলার শিকার হওয়ার দাবিও আলোচনায় উঠে আসে।

রাজনৈতিক দল গঠন, এরপর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘোষণাও

রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করতে না পারলেও রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যান খাইরুল দেওয়ান। তিনি ‘স্বঘোষিত জনকল্যাণ পার্টি’ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। এরপর এই দলের ব্যানারে রাজধানীর পল্টন মোড়, তোপখানা রোড, হাইকোর্ট এলাকা ও গুলিস্তানসহ বিভিন্ন স্থানে নিজেকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বক্তব্য দিতে থাকেন।

পরে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য না থাকায় তিনি গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচন করার আগ্রহের কথাও জানান। তার এসব ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের জেরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তাকে প্রথমে ‘রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী নেতা’ এবং পরে ‘প্রিয় নেতা’ নামে ডাকতে শুরু করেন।

বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিংবা রাষ্ট্রপতির পদ নিয়ে নতুন কোনো আলোচনা শুরু হলেই ফেসবুকের মন্তব্যের ঘরে অসংখ্য ব্যবহারকারী খাইরুল দেওয়ানের নাম উল্লেখ করে রসাত্মক মন্তব্য করছেন। এভাবেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্যতম আলোচিত ও ট্রেন্ডিং চরিত্রে পরিণত হয়েছেন।

খাইরুল দেওয়ানের ব্যক্তিগত পরিচয়

ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে খাইরুল দেওয়ান জানান, তার আদি পৈতৃক বাড়ি মুন্সিগঞ্জ (Munshiganj) জেলার লৌহজং উপজেলায়। মুক্তিযুদ্ধের পর তাদের পৈতৃক বাড়িটি ভেঙে যায়।

তার বাবা সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও থানার সরকারি কোয়ার্টারে তার শৈশব কেটেছে। বর্তমানে তার স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার কেরানীগঞ্জ দক্ষিণের আব্দুল্লাহপুর কুচিয়ামোড়া এলাকায় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে, তবে তার জনপ্রিয়তার বড় একটি অংশ নেটিজেনদের রসাত্মক মন্তব্য, ট্রোল ও ভাইরাল সংস্কৃতির ফল। রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে নতুন কোনো বিতর্ক বা আলোচনা তৈরি হলেই তার নাম আবারও আলোচনায় উঠে আসছে।