ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নিজে উপস্থিত না হয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘ঠান্ডা খেয়ে চলে যেতে’ বলেছিলেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক। তবে এমন আচরণের পরও শেষ পর্যন্ত অনিয়মের দায় থেকে রেহাই মেলেনি। অনুমোদন ছাড়াই প্রাণী খাদ্য উৎপাদন, ভুয়া বিএসটিআই নম্বর ও লোগো ব্যবহার এবং প্রতারণামূলকভাবে পণ্য বাজারজাত করার অভিযোগে গাজীপুরের সরকার এগ্রোকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার (২৬ জুলাই) গাজীপুর (Gazipur) মহানগরের বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার ‘মাস্টার ভিলা’ নামের একটি বহুতল ভবনের নিচতলায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ আলী আদনান (Ahmed Ali Adnan) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় মৎস্য অধিদপ্তর (Department of Fisheries) এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (Bangladesh Standards and Testing Institution—BSTI)-এর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযুক্ত সরকার এগ্রো (Sarkar Agro)-এর মালিক আজাহার সরকার। তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার চৌদার উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত সরকার এগ্রো দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় কোনো অনুমোদন ছাড়াই প্রাণী খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল। প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন পেজে ভুয়া বিএসটিআই নম্বর ও লোগো ব্যবহার করে মাছ ও পশুখাদ্য বিক্রি করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে।
এসব অভিযোগ পাওয়ার পর মৎস্য অধিদপ্তর ও বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালান। পুরো অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ আলী আদনান।
অভিযান চলাকালে প্রতিষ্ঠানটির মালিক আজাহার সরকারকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতে বলা হয়। কিন্তু তিনি সেখানে না এসে উল্টো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেন, ‘আপনি যদি আজকে ঠান্ডা খেয়ে চলে যেতেন, তবে পরবর্তীতে আমি আপনাদের অফিসে গিয়ে সাক্ষাৎ করতাম।’
তবে মালিকের এমন বক্তব্যে থেমে থাকেনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কাগজপত্র, উৎপাদনপ্রক্রিয়া এবং পণ্য বাজারজাতের পদ্ধতি যাচাই করে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ আলী আদনান বলেন, অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই প্রাণী খাদ্য উৎপাদন, ভুয়া বিএসটিআই লোগো ব্যবহার এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে পণ্য বাজারজাত করার কারণে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মৎস্য ও পশুখাদ্য আইন, বিএসটিআই আইন এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় সরকার এগ্রোকে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।


